নয়াদিল্লি: ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও (precision guidance kit)এক ধাপ শক্তিশালী করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। ইজরায়েল থেকে প্রায় ১,০০০টি SPICE-1000 প্রিসিশন গাইডেন্স কিট কেনার অনুমোদন দিয়েছে ভারত সরকার। প্রায় ৮.৭ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা প্যাকেজের অংশ হিসেবে এই চুক্তি কার্যকর হচ্ছে বলে প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর। এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ভারতীয় বায়ুসেনার ডিপ স্ট্রাইক সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।
SPICE-1000 (Smart, Precise Impact, Cost-Effective) মূলত একটি স্ট্যান্ডঅফ গ্লাইড বোম্ব কিট। এই কিট সাধারণ ‘ডাম্ব বোম্ব’-কে অত্যন্ত নির্ভুল ও স্মার্ট অস্ত্রে পরিণত করে। একবার বিমান থেকে নিক্ষেপ করা হলে, এই বোমাগুলি শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাইরে থেকেই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এর কার্যক্ষম রেঞ্জ ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি, যা যুদ্ধক্ষেত্রে বড় কৌশলগত সুবিধা দেয়।
ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অফিসার হওয়ার জন্য SSB কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, SPICE-1000-এর সবচেয়ে বড় শক্তি এর জ্যাম-প্রতিরোধী (jam-resistant) প্রযুক্তি। এই গাইডেন্স কিটে ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল সিকার, জিপিএস ও ইনর্শিয়াল ন্যাভিগেশন সিস্টেম একসঙ্গে কাজ করে। ফলে শত্রুপক্ষ ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের চেষ্টা করলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। আধুনিক যুদ্ধে যেখানে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের গুরুত্ব বাড়ছে, সেখানে এই প্রযুক্তি ভারতকে বড় সুবিধা দেবে।
ভারতের কাছে SPICE প্রযুক্তি নতুন নয়। ২০১৯ সালের বালাকোট এয়ার স্ট্রাইক-এ প্রথমবার এই প্রিসিশন গাইডেন্স কিট ব্যবহার করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। সেই অভিযানে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটিতে নির্ভুল আঘাত হেনে বিশ্বজুড়ে নজর কেড়েছিল এই প্রযুক্তি। সেই সফল ব্যবহারের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার বড় পরিসরে SPICE-1000 কিট সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।
এই চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি ভারতের দূরপাল্লার আক্রমণ ক্ষমতা (deep strike capability) আরও শক্তিশালী করবে। যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর গভীরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি, বাঙ্কার, কমান্ড সেন্টার বা পরিকাঠামো ধ্বংস করতে এই বোমাগুলি অত্যন্ত কার্যকর। তাছাড়া, পাইলটদের ঝুঁকি কমিয়ে নিরাপদ দূরত্ব থেকে আঘাত হানার সুযোগ দেয় এই স্ট্যান্ডঅফ অস্ত্র।
ভারত-ইজরায়েল প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এই চুক্তি একটি বড় মাইলফলক। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ড্রোন, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, মিসাইল এবং প্রিসিশন অস্ত্রের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা ক্রমশ গভীর হয়েছে। প্রতিরক্ষা মহলের মতে, এই ধরনের প্রযুক্তি স্থানান্তর ও যৌথ ব্যবহারের মাধ্যমে ভারত ভবিষ্যতে নিজস্ব প্রিসিশন স্ট্রাইক প্রযুক্তিও আরও উন্নত করতে পারবে।
যদিও এই চুক্তির আর্থিক অঙ্ক বড়, তবুও সরকারের যুক্তি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস নয়। সীমান্তে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, SPICE-1000 গাইডেন্স কিটের এই অনুমোদন ভারতীয় বায়ুসেনার আঘাতের ক্ষমতাকে আরও নিখুঁত, শক্তিশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলবে। বালাকোটে পরীক্ষিত প্রযুক্তিকে আরও বড় পরিসরে কাজে লাগিয়ে, ভবিষ্যতের যেকোনো পরিস্থিতির জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখতেই এই কৌশলগত পদক্ষেপ।
