
নয়াদিল্লি, ১২ ডিসেম্বর: দেশের ইতিহাসে একটা ঐতিহাসিক মোড় ঘুরেছে আজ (India 2027 Census budget)। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ২০২৭ সালের জনগণনার জন্য ১১,৭১৮ কোটি টাকার বিশাল বাজেট অনুমোদন করেছে। এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারণ মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি বলেন, “মন্ত্রিসভা ২০২৭-এর জনগণনার জন্য ১১,৭১৮ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে।
এটি দেশের উন্নয়নের ভিত্তি মজবুত করবে।” এই বাজেট শুধু সংখ্যা গণনা নয়, জাতিগত তথ্য সংগ্রহের সাথে জড়িত, যা স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো জাতিগত গণনা অন্তর্ভুক্ত করবে। এই সিদ্ধান্ত যেন সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে, বিশেষ করে সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবিকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।পটভূমি স্মরণ করলে বোঝা যায়, গত ২০১১ সালের জনগণনার পর দেশের জনসংখ্যা তথ্যের একটা ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছে।
কোভিড মহামারীর কারণে ২০২১-এর জনগণনা বিলম্বিত হয়ে যায়, এবং এখন ২০২৭-এর জন্য এই নতুন পরিকল্পনা। এর আগে এপ্রিল মাসে মন্ত্রিসভা জাতিগত গণনা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা বৈষ্ণবের কথায় “সমাজের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের জন্য”। জুন মাসে জানানো হয় যে, জনগণনা দুই ফেজে চলবে—প্রথম ফেজ হাউসলিস্টিং ১ অক্টোবর ২০২৬, এবং দ্বিতীয় ফেজ জনসংখ্যা গণনা ১ মার্চ ২০২৭।
জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ এবং উত্তরাখণ্ডে কাজ আগে শুরু হবে। এই বাজেটে জাতিগত তথ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, যা রাজ্যগুলোর সামাজিক যোজনাকে আরও সুনির্দিষ্ট করবে।বৈষ্ণবের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক। তিনি কংগ্রেস এবং আইএনডিআই জোটকে সমালোচনা করে বলেন, “কংগ্রেস সরকারগুলো সবসময় জাতিগত গণনার বিরোধিতা করেছে।
স্বাধীনতার পর কোনও জনগণনায় জাতি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ২০১০ সালে মনমোহন সিং জাতিগত গণনার বিষয়ে মন্ত্রিসভায় বিবেচনার কথা বললেও, তারা শুধু সার্ভে করেছে, অফিসিয়াল গণনা নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “কংগ্রেস এবং তার মিত্ররা জাতিগত গণনাকে শুধু রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।
কিছু রাজ্যে এমন সার্ভে হয়েছে যা অস্বচ্ছ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” এই কথা যেন বিরোধীদের মধ্যে আগুন জ্বালিয়েছে। বিপক্ষ নেতারা বলছেন, এটি বিজেপির নির্বাচনী কৌশল, যা জাতিগত বিভাজন বাড়াবে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেছেন, “এই সিদ্ধান্ত দেরি হয়েছে, কিন্তু আমরা এর জন্য লড়াই করেছি। এখন এটি স্বচ্ছ হতে হবে।”










