স্বাস্থ্য পরিষেবায় নয়া বদল আনতে বড় ঘোষণা মোদী সরকারের

নতুন দিল্লি: ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল ও মেডিক্যাল ডিভাইস সেক্টরে (Impact of bulk drug parks)এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো, আমদানির উপর নির্ভরতা…

impact-bulk-drug-medical-device-parks-india

নতুন দিল্লি: ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল ও মেডিক্যাল ডিভাইস সেক্টরে (Impact of bulk drug parks)এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো, আমদানির উপর নির্ভরতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত করতে কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক রাজ্যে বাল্ক ড্রাগ পার্ক ও মেডিক্যাল ডিভাইস পার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রকল্পগুলি এখন বিভিন্ন ধাপে নির্মাণাধীন এবং পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে ভারতের স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Advertisements

ডিপার্টমেন্ট অফ ফার্মাসিউটিক্যালস-এর আওতায় গুজরাটের ভরুচ, হিমাচল প্রদেশের উনা এবং অন্ধ্র প্রদেশের আনাকাপল্লিতে বাল্ক ড্রাগ পার্ক তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মেডিক্যাল ডিভাইস পার্ক অনুমোদিত হয়েছে উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডা, মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িন এবং তামিলনাড়ুর কাঞ্চিপুরমে।

   

সুপার কাপের ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত রুবিওর

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশে ওষুধের মূল উপাদান (API), কেমিক্যাল, বায়োটেক সামগ্রী এবং মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট উৎপাদন বাড়ানো। বহু বছর ধরেই ভারত কম খরচে উচ্চমানের ওষুধ তৈরি করে বিশ্বব্যাপী সুনাম অর্জন করেছে, কিন্তু API উৎপাদনের ক্ষেত্রে এখনও বিপুল অংশ আমদানি নির্ভর। বিশেষত চীনের উপর নির্ভরতা ভারতের ফার্মা সেক্টরের অন্যতম বড় দুর্বলতা। সেই আমদানি নির্ভরতা কাটাতেই এই বাল্ক ড্রাগ পার্কগুলির ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গুজরাট দীর্ঘদিন ধরেই দেশের কেমিক্যাল এবং ওষুধ উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র। ভরুচে তৈরি হওয়া বাল্ক ড্রাগ পার্কে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে যার মধ্যে রয়েছে কমন ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, সলভেন্ট রিকভারি সিস্টেম এবং কেন্দ্রীয় গবেষণা সুবিধা। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পার্ক চালু হলে দেশের মোট API উৎপাদনের একটি বড় অংশ এখান থেকেই আসবে।

উনা জেলা ভারতের অন্যতম বড় ফার্মা হাব বিলাসপুর ও বদ্দি এলাকার কাছে অবস্থিত। এই অঞ্চলে আগে থেকেই ১,০০০–এরও বেশি ফার্মা কোম্পানি কাজ করছে। বাল্ক ড্রাগ পার্ক তৈরির ফলে কাঁচামাল উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রস্তুত ওষুধ দুই ক্ষেত্রেই এই অঞ্চল আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে। বিশাখাপত্তনমের নিকটবর্তী আনাকাপল্লিতে তৈরি হওয়া পার্ক দক্ষিণ ভারতকে API সাপ্লাই চেইনে নতুন গতি দেবে। পর্যাপ্ত সমুদ্রবন্দর সুবিধা থাকায় রফতানিও সহজ হবে।

মেডিক্যাল ডিভাইসের ক্ষেত্রে ভারতের আমদানি নির্ভরতা প্রায় ৮০%— স্টেন্ট, ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক যন্ত্র, বায়োমেডিক্যাল মেশিন, সার্জিক্যাল টুলস– সবই বিদেশ থেকে আসে। এই পরিস্থিতিতে মেডিক্যাল ডিভাইস পার্কগুলি দেশের স্বাস্থ্য সরঞ্জাম শিল্পকে নতুন প্রাণ দেবে।

গ্রেটার নয়ডা (উত্তরপ্রদেশ)— দেশে বৃহত্তম মেডিক্যাল-ডিভাইস উৎপাদন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। উজ্জয়িন (মধ্যপ্রদেশ)— মধ্যভারতে স্বাস্থ্য শিল্প বিকাশের বড় সুযোগ। কাঞ্চিপুরম (তামিলনাড়ু)— ইলেকট্রনিক্স ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তামিলনাড়ু দ্রুত মেডিক্যাল টেকনোলজির হাবে পরিণত হতে পারে।

হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ তৈরি হবে; নতুন শিল্প এবং উৎপাদন ইউনিট তৈরি হবে। প্রত্যেক পার্কে ২০,০০০–৫০,০০০ মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। API ও মেডিক্যাল যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে বিদেশ নির্ভরতা ক্রমশ কমে আসবে। বিশ্ব ফার্মা বাজারে ভারতের প্রতিযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। দেশেই যন্ত্রপাতি উৎপাদন হলে রোগীদের চিকিৎসা খরচ কমবে। এই পার্কগুলি নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে ভারত ফার্মা ও মেডিক্যাল ডিভাইস শিল্পে বিশ্বশক্তিতে পরিণত হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

Advertisements