শ্রীনগর: জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির কন্যা তথা পিডিপি নেত্রী ইলতিজা মুফতি (Iltija Mufti)ফের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। সম্প্রতি কাশ্মীরি ব্যবসায়ীদের উপর হামলার ঘটনায় ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে ইলতিজা স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমাদের জোর করে ভারত মাতা কি জয় বা বন্দে মাতরম বলানো যায় না।”
এই মন্তব্যকে অনেকে দেখছেন দেশপ্রেমের প্রশ্নে চ্যালেঞ্জ হিসেবে, আবার কেউ বলছেন এটি ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং জোর না করার অধিকারের দাবি।ঘটনার সূত্রপাত ডিসেম্বরের শেষে। উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা এবং হিমাচলের মতো রাজ্যে কাশ্মীরি শাল ব্যবসায়ীদের উপর হামলার একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়। অভিযোগ, ‘ভারত মাতা কি জয়’ বা ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান না বলায় তাদের মারধর করা হয়েছে।
বছরের দ্বিতীয় দিনেই উচ্ছেদ করে ৭৭০ হেক্টর জমি খালি করল অসম সরকার
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হরিয়ানার ফতেহাবাদে এক কাশ্মীরি যুবককে কলার ধরে টেনে স্লোগান বলতে বাধ্য করা হচ্ছে। অন্য ভিডিওতে উত্তরাখণ্ডে বজরং দলের কর্মীদের নামে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ইলতিজা এক্স-এ পোস্ট করে লেখেন, “আরেকটি নিরীহ কাশ্মীরি যুবককে অপমানিত ও প্রহৃত করা হয়েছে শুধুমাত্র বন্দে মাতরম বলতে না চাওয়ায়। আমাদের জোর করে এই স্লোগান বলানো যায় না।”
তিনি আরএসএস এবং বজরং দলকে ‘ক্যান্সার’ বলে সমালোচনা করেন এবং গান্ধীর ভারতের মৃত্যু হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।এই মন্তব্য দেশজুড়ে ঝড় তুলেছে। একপক্ষ বলছে, ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলতে অস্বীকার করা মানে দেশের প্রতি আনুগত্যের অভাব। যদি দেশের সংবিধান, নিরাপত্তা, ক্ষমতা এবং সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করতে হয়, তাহলে দেশপ্রেমের এই প্রতীকী স্লোগান বলায় আপত্তি কেন?
অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, এটি কি ধর্মের নামে দেশকে প্রত্যাখ্যান করা নয়? বিজেপি নেতারা এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো ইলতিজাকে ‘দেশবিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইলতিজা এবং তাঁর সমর্থকরা বলছেন, এটি ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রশ্ন। ইসলামে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে দেবতা বা মাতৃরূপে পূজা করা নিষিদ্ধ।
‘ভারত মাতা’কে দেবী হিসেবে কল্পনা করে স্লোগান দেওয়া অনেক মুসলিমের কাছে শিরক বা অংশীদারিত্বের সমান। তারা বলছেন, ‘হিন্দুস্তান জিন্দাবাদ’ বা ‘ইন্ডিয়া জিন্দাবাদ’ বলতে কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু জোর করে ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে স্লোগান চাপানো সংবিধানের স্বাধীনতার লঙ্ঘন। ইলতিজা পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, কাশ্মীরিদের উপর এই হামলা কেন? এটি কি সংখ্যালঘুকে ভয় দেখানোর চেষ্টা নয়?
