৫৭০ বেআইনি মাজার ভেঙে রেকর্ড ধামি সরকারের

উত্তরাখন্ড: উত্তরাখণ্ডে বেআইনি দখলের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান (illegal mazar demolition)আরও একবার স্পষ্ট করল ধামি সরকার। গাদরপুরে সরকারি বাগানের জমিতে নির্মিত একটি বেআইনি মাজার রাতারাতি ভেঙে…

illegal-mazar-demolition-gadarpur-uttarakhand-dhami

উত্তরাখন্ড: উত্তরাখণ্ডে বেআইনি দখলের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান (illegal mazar demolition)আরও একবার স্পষ্ট করল ধামি সরকার। গাদরপুরে সরকারি বাগানের জমিতে নির্মিত একটি বেআইনি মাজার রাতারাতি ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই উচ্ছেদের সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যজুড়ে এখনও পর্যন্ত ৫৭০টি বেআইনি কাঠামো অপসারণ করা হল। সরকারের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না ধর্ম বা পরিচয়ের আড়ালে বেআইনি দখলকে কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

Advertisements

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, গাদরপুরে যে মাজারটি ভাঙা হয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি বাগানের জমিতে অবৈধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। একাধিকবার নোটিস জারির পরও নির্মাণকারী পক্ষ কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত আইন মেনেই উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না তৈরি হয়, সে কারণে রাতের অন্ধকারেই অভিযান চালানো হয় এবং পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা রাখা হয়েছিল।

   

SIR শুনানিতে ভুয়ো তথ্য দিলে কড়া শাস্তির বিধান নির্বাচন কমিশনের

মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির নেতৃত্বে উত্তরাখণ্ড সরকার সাম্প্রতিক মাসগুলিতে অবৈধ দখল ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, মাজার, মন্দির, দোকান, বসতি বিভিন্ন ধরনের ৫৭০টি বেআইনি স্থাপনা ইতিমধ্যেই সরানো হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এগুলির বেশিরভাগই সরকারি জমি, বনাঞ্চল বা জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছিল।

সরকারি আধিকারিকরা জোর দিয়ে বলেছেন, এই অভিযান কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়। এক প্রশাসনিক কর্তার কথায়, “আইন সবার জন্য সমান। সরকারি জমি দখল করা হলে তা বেআইনি, সে জায়গায় কী তৈরি হয়েছে তা নয়, দখলটাই মূল সমস্যা।” তাঁর দাবি, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নথি যাচাই, নোটিস এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

তবে এই অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। পাল্টা রাজ্য সরকারের যুক্তি, বেআইনি দখলকে দীর্ঘদিন放置 করলে তা স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয় এবং ভবিষ্যতে আইন প্রয়োগ আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তাই শুরুতেই কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, সরকারি বাগান বা খোলা জায়গা দখলমুক্ত হওয়ায় এলাকার পরিবেশ ও নিরাপত্তা দুটোই উন্নত হবে। আবার কারও আশঙ্কা, উচ্ছেদের সময় মানবিক দিক আরও গুরুত্ব পেলে ভালো হত। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যেখানে বসবাসের প্রশ্ন জড়িত, সেখানে পুনর্বাসনের বিষয়টিও আইন অনুযায়ী বিবেচনা করা হচ্ছে।

ধামি সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভবিষ্যতেও এই অভিযান চলবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “আইনই শেষ কথা। বিশ্বাস বা পরিচয়ের আড়ালে বেআইনি কাজ লুকিয়ে রাখা যাবে না।” সরকারের মতে, জমি দখলের বিরুদ্ধে এই কঠোরতা রাজ্যের জনস্বার্থ, পরিবেশ সুরক্ষা ও আইনের শাসন বজায় রাখতে প্রয়োজনীয়।

সব মিলিয়ে, গাদরপুরের রাতারাতি উচ্ছেদ শুধু একটি মাজার ভাঙার ঘটনা নয় এটি উত্তরাখণ্ডে বেআইনি দখলের বিরুদ্ধে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি নীতিরই প্রতিফলন। প্রশ্ন একটাই আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? ধামি সরকারের বার্তা পরিষ্কার: বেআইনি হলে, পরিচয় যাই হোক, ব্যবস্থা হবেই।

Advertisements