
বেঙ্গালুরু, ভারতের আইটি রাজধানী। ( Aadhaar Card)এই শহরে স্বপ্ন দেখতে আসে লক্ষ লক্ষ মানুষ। কিন্তু সম্প্রতি যে খবর সামনে এসেছে, তা অনেকেরই মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, বহু বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে এই শহরে বসবাস করছেন এবং ভারতীয় নথি-পত্র ব্যবহার করে জীবনযাপন করছেন। ভোটার আইডি, আধার কার্ড, রেশন কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে শুরু করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সবকিছুই তাদের হাতে।
আর এসবের পিছনে রয়েছে একটি সংগঠিত চক্র, যারা মাত্র ১৫০০ টাকার বিনিময়ে জাল আধার কার্ড তৈরি করে দিচ্ছে!কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি. পরমেশ্বর নিজে স্বীকার করেছেন যে, রাজ্য সরকার এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তিনি বলেছেন, “অনেক বাংলাদেশি নাগরিক এখানে এসে বিভিন্ন ধরনের আইডি কার্ড বানিয়ে নিয়েছেন। তারা এমনভাবে আচরণ করছেন যেন তারা ভারতীয়ই।”
ছোটদের ডার্বিতে লাল-হলুদের দাপট, বাগানকে হারাল ইস্টবেঙ্গল
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিবাসীরা সাধারণত বেঙ্গালুরুর শান্ত পরিবেশের কারণে এই শহরকেই বেছে নেন। অনেকে আনেকাল, ইলেকট্রনিক সিটি, হুলিমাঙ্গালা এলাকার লেবার কলোনিতে বাস করছেন। সম্প্রতি ইলেকট্রনিক সিটি এলাকায় একটি অভিযানে ৩৩ জনেরও বেশি সন্দেহভাজন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে।কীভাবে এত সহজে এই নথিগুলো হাতে আসে?
সূত্রের খবর, সীমান্তের ছিদ্রপথ দিয়ে দালালদের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করেন এরা। তারপর স্থানীয় এজেন্টরা জাল নথি তৈরির কাজে লেগে যান। মাত্র ১৫০০ টাকায় আধার কার্ড, আর কিছু বেশি দিয়ে ভোটার আইডি, রেশন কার্ড।
এরপর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা, প্যান কার্ড, এমনকি ড্রাইভিং লাইসেন্সও বানানো হয়। একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে একজন অভিবাসী ব্যাঙ্ক অফ বরোদায় অ্যাকাউন্ট খুলে বাজাজ ফাইন্যান্স থেকে ৪.৫ লক্ষ টাকার লোন নিয়ে অটোরিকশা কিনেছেন!
অনেকে ইএমআই-তে গাড়ি-বাইকও কিনে ফেলছেন। এই সুবিধাগুলো নিয়ে তারা স্থানীয় অর্থনীতিতে মিশে যাচ্ছেন, চাকরি করছেন, ব্যবসা করছেন।এই ঘটনা নতুন নয়। আগেও কলকাতা, দিল্লি, মুম্বইয়ে এমন চক্র ধরা পড়েছে।
কোথাও ৪০ হাজার টাকায় ভোটার-আধার কার্ড, কোথাও আবার ১-১.৫ লক্ষ টাকায় পুরো প্যাকেজ। পুলিশের দাবি, এর পিছনে রয়েছে বড় নেটওয়ার্ক। কেউ কেউ বলছেন, সীমান্তে ঘুষ দিয়ে প্রবেশ, তারপর এখানে এসে জালিয়াতির মাধ্যমে স্থায়ী হয়ে যাওয়া।
কর্ণাটক পুলিশ এখন সব বাংলাদেশি নাগরিকের তালিকা তৈরি করছে। যাদের নথি জাল প্রমাণিত হবে, তাদের বহিষ্কার করা হবে।স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ নিয়ে বিরাট উদ্বেগ। অনেকে বলছেন, এতে স্থানীয় যুবকদের চাকরি কমে যাচ্ছে, সম্পদের ভাগ বসছে। আবার কেউ কেউ দাবি করছেন যে, তারা পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় নাগরিক। কিন্তু পুলিশের তদন্তে অনেক নথিই জাল বলে ধরা পড়ছে।
এই ঘটনা শুধু নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জাতীয় পরিচয়ের অখণ্ডতা, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং সামাজিক সমস্যা। সরকার বলছে, কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে এই চক্রের মূলোৎপাটন কতদূর সম্ভব? বেঙ্গালুরুর মতো শহরে এমন ঘটনা কি আরও বাড়বে? সময়ই বলবে। তবে এখনই সতর্কতা ও কঠোর তদন্তের দাবি উঠছে জোরালোভাবে।










