
ভোপাল, ১২ ডিসেম্বর: মধ্যপ্রদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে একটা (IAS Officer Brahmin Controversy)ঝড় উঠেছে আইএএস অফিসার সন্তোষ বর্মার বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে। গত ২৩ নভেম্বর ভোপালে অনুষ্ঠিত মধ্যপ্রদেশ অনুসূচিত জাতি-অনুসূচিত জনজাতি অধিকারী ও কর্মচারী সংঘ (এজেজেকেএস) এর আয়োজনে এক অনুষ্ঠানে বর্মা বলেন, “এক পরিবারে একজনকে রিজার্ভেশন পাওয়া উচিত, যতক্ষণ না একজন ব্রাহ্মণ তার কন্যাকে আমার ছেলের সঙ্গে বিবাহ দেন বা তাদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়।”
এই কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। ফলে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের নেতৃত্বাধীন সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে—বর্মাকে কৃষি বিভাগের ডেপুটি সেক্রেটারির পদ থেকে সরিয়ে জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্টে (জিএডি) অ্যাটাচ করে দেওয়া হয়েছে, এবং কেন্দ্রকে চিঠি লিখে তাঁর আইএএস ক্যাডার থেকে বরখাস্তের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
ভারতে Nissan ফের এন্ট্রি নিচ্ছে, 18 ডিসেম্বর উন্মোচিত হবে নতুন 7-সিটার MPV
এই ঘটনা শুধু একজন অফিসারের ভুল নয়, এটা জাতিগত সংবেদনশীলতা এবং রিজার্ভেশনের রাজনীতির গভীর প্রশ্ন তুলেছে। বর্মা, যিনি এজেজেকেএস-এর স্টেট প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন সেই অনুষ্ঠানেই, পরে তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি ‘কন্যাদান’-এর কথা বলেছিলাম, যা হিন্দু বিবাহের ঐতিহ্য, এবং ‘রুটি-বেটি’ সংস্কৃতির কথা উল্লেখ করেছিলাম যা জাতিগত সীমানা ভাঙার প্রচেষ্টা।
আমার কোনও অসম্মানের উদ্দেশ্য ছিল না।” কিন্তু এই ক্ষমা সত্ত্বেও ব্রাহ্মণ সংগঠনগুলো সন্তুষ্ট নয়। ৬৫টি ব্রাহ্মণ সংগঠন ঘোষণা করেছে, শুক্রবার বিক্ষোভ এবং ১৪ ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে ঘেরাও। তারা অভিযোগ করছে, এই মন্তব্য নারীদের প্রতি অসম্মানজনক এবং জাতিগত ঐক্য নষ্ট করার চেষ্টা। রেওয়া থেকে সাংসদ জনার্দন মিশ্র বলেছেন, “বর্মার কথা আইএএস-এর আচরণবিধির লঙ্ঘন। তাঁর প্রমোশনের তদন্ত হোক এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইএএস পদ থেকে সরানো হোক।”
সরকারের পক্ষ থেকে জিএডি-র এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব ঘটনার স্বতফল্যোত্তর পর্যালোচনা করে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। বর্মার শো-কজ নোটিসের জবাব অসন্তোষজনক, এবং তিনি এখনও অশোভন বক্তব্য দিচ্ছেন। তাই চার্জশিট জারি করা হবে।” আরও বড় অভিযোগ, বর্মা রাজ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (এসএএস) থেকে আইএএস-এ প্রমোশন পেতে জালিয়াতি করেছেন—একটা ভুয়া সার্টিফিকেট অফ ইন্টেগ্রিটি তৈরি করে।
এই তদন্ত চলছে, এবং এটাই বরখাস্তের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্মাকে এখন কোনও বিভাগে কাজ দেওয়া হবে না, তিনি জিএডি পুলে থাকবেন। এই পদক্ষেপ যেন সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানের স্পষ্ট বার্তা সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে কোনও ছাড় নেই। এই বিতর্কের মূলে রয়েছে সংরক্ষণ নিয়ে চলতে থাকা লড়াই। বর্মার মতো মন্তব্য যেন সেই আগুনকে আরও উস্কে দেয়।
দেশজুড়ে অনুরূপ ঘটনা দেখা গেছে জাতিগত সংবেদনশীলতা রাজনীতিকে বিষাক্ত করে তুলছে। মুখ্যমন্ত্রী যাদবের এই পদক্ষেপ যেন একটা সতর্কবার্তা অফিসাররা সামাজিক সম্প্রীতির পাহারাদার, না হলে কঠোর শাস্তি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ হবে? বর্মার প্রমোশনের জালিয়াতির অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে এটা শুধু বিতর্ক নয়, বড় কেলেঙ্কারি।










