থাকবে রাফায়েল-তেজসের এইচডি ফুটেজ, ‘ডিজিটাল ওয়াচডগ’ মোতায়েন করবে বায়ুসেনা

fighter jet

নিউদিল্লি, ৩ জানুয়ারি: ভারতীয় বিমান বাহিনী (Indian Air Force) তাদের বেশ কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে একটি নতুন স্বয়ংক্রিয় টেক-অফ এবং ল্যান্ডিং রেকর্ডিং সিস্টেম (IAF safety system) স্থাপন করছে। সম্প্রতি অনুমোদিত ৭৯,০০০ কোটি টাকার বিশাল প্রতিরক্ষা প্যাকেজের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল (DAC) এই সিস্টেমটি অনুমোদন করেছে। এই সিস্টেমটি সমস্ত আবহাওয়ায় বিমানের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। এই নতুন সিস্টেমটি চালু হওয়ার সাথে সাথে রানওয়ে এবং ট্যাক্সিওয়েতে হাই-ডেফিনিশন ক্যামেরা এবং সেন্সরের একটি নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে। এই সিস্টেমটি কেবল বিমানের গতি এবং কোণ রেকর্ড করবে না, বরং রানওয়েতে হঠাৎ করে উপস্থিত যেকোনো প্রাণী, যানবাহন বা মানুষের সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য প্রদান করবে।

এই নতুন রেকর্ডিং সিস্টেমটি কী?
এই সিস্টেমটি কেবল একটি ভিডিও ক্যামেরা নয়, বরং বুদ্ধিমান সেন্সরের একটি সংগ্রহ। রানওয়ের প্রতিটি কোণে উচ্চ-রেজোলিউশন ক্যামেরা স্থাপন করা হবে, যা প্রতিটি গতিবিধি ধারণ করবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল, কুয়াশা, ভারী বৃষ্টিপাত বা রাতের অন্ধকারেও তারা স্পষ্ট দেখতে পাবে। এটি সামনের দিকের বিমানঘাঁটিতে খুবই কার্যকর হবে যেখানে আবহাওয়া প্রায়শই প্রতিকূল থাকে। প্রতিটি অবতরণের সাথে সাথে, সেই সময়ের আবহাওয়া, সময় এবং রানওয়ের অবস্থা সম্পর্কিত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষণ করা হবে, যা পরে প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

   

রানওয়েতে আক্রমণ এবং দুর্ঘটনা
প্রায়শই দেখা গেছে যে রানওয়েতে কোনও বন্য প্রাণী বা যানবাহন প্রবেশ করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই সিস্টেমটি মানুষের ভুল দূর করবে। যদি কোনও অবাঞ্ছিত বস্তু রানওয়েতে পড়ে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে একটি অ্যালার্ম বাজবে। কোনও ঘটনা ঘটলে, তদন্ত দলের কাছে স্ফটিক-স্বচ্ছ ভিডিও ফুটেজ থাকবে। এর ফলে ত্রুটিটি কোথায় ঘটেছে এবং কীভাবে এটি আবার না ঘটতে পারে তা চিহ্নিত করা সহজ হবে। পাইলটদের অবতরণের পরে ভিডিও দেখানো যেতে পারে যাতে তারা তাদের কৌশল উন্নত করতে পারে।

তেজস এবং রাফালের জন্য নিরাপত্তা প্রয়োজন
যেহেতু তেজস এবং রাফালের মতো আধুনিক বিমান ভারতীয় বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, তাই স্থল-ভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থারও আধুনিকীকরণ অপরিহার্য। আজকাল, প্রশিক্ষণ এবং নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জের কারণে বিমানের উড্ডয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বল্প সময়ে নিরাপদে আরও বিমান অবতরণের জন্য স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন একজন পাইলট জানেন যে তাকে নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণ করার জন্য মাটিতে একটি দুর্ভেদ্য ব্যবস্থা রয়েছে, তখন তার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন