উত্তরপ্রদেশের অঙ্গনওয়াড়ি বিভাগে একবার আবার দুর্নীতির অভিযোগ শিরোনামে উঠে এসেছে। রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে সরাসরি চিঠি লিখে উত্তরপ্রদেশের প্রতিমন্ত্রী প্রতিভা শুক্লা অঙ্গনওয়াড়ি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাকে সতর্ক করেছেন এবং কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। মন্ত্রীর এই চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যে শোরগোল শুরু হয়েছে।
অঙ্গনওয়াড়ি নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে, মন্ত্রীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, টাকার বিনিময়ে নিয়োগ করা হচ্ছে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের। এর ফলে যোগী সরকারের কার্যক্রমে সন্দেহ এবং প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রতিভা শুক্লা জানিয়েছেন, এমন ঘটনা রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে নষ্ট করছে এবং এই দুর্নীতি চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি চিঠি দিয়েছেন।
অঙ্গনওয়াড়ি পদে নিয়োগের অনিয়ম
উত্তরপ্রদেশে বর্তমানে ৫২ হাজারের বেশি অঙ্গনওয়াড়ি পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে শুন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যদিও গত বছর থেকেই এই পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, কিন্তু বিভিন্ন জেলায় নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যকরী হতে পারেনি। বিশেষ করে, বিভিন্ন কারণে, যেমন হাই কোর্টে মামলা, নিয়োগে অনিয়ম, এবং প্রশাসনিক বাধা, সরকারের নিয়োগ কার্যক্রমে বড় রকমের বাধা এসেছে। এরফলে সরকারের অঙ্গনওয়াড়ি নিয়োগ প্রক্রিয়া ক্রমশ এক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
এছাড়া, কিছু সময় আগে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় উনচাহারের বিজেপি বিধায়ক মনোজ পান্ডে এই নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তা আলোচনার জন্য উত্থাপন করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, অঙ্গনওয়াড়ি বিভাগে নিয়োগের জন্য টাকার বিনিময়ে স্থান দেওয়া হচ্ছে এবং এর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই অভিযোগ একেবারে নতুন নয়, বহু আগেই প্রশাসনিক স্তরে বিষয়টি উঠেছিল এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের তরফে তেমন কোনও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অঙ্গনওয়াড়ি খাবারের মান নিয়ে বিতর্ক
উত্তরপ্রদেশের অঙ্গনওয়াড়ি বিভাগে নিয়োগের দুর্নীতি ছাড়াও, আইসিডিএস (ইন্টিগ্রেটেড চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস) কর্মসূচির অধীনে শিশুদের খাবারের মান নিয়েও বারবার বিতর্ক উঠেছে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অঙ্গনওয়াড়ির মাধ্যমে শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং সেই সঙ্গে শিশুদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বেশ কিছু উদ্বেগও প্রকাশিত হয়েছে।
যোগী সরকারের পদক্ষেপ
এটি লক্ষণীয় যে, পরিস্থিতি সামাল দিতে উত্তরপ্রদেশ সরকার উচ্চপর্যায়ের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন রাজ্যের অভিজ্ঞ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। এই কমিটি একাধিক জেলায় তদন্ত শুরু করেছে এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। তবে, মন্ত্রীর চিঠির পর উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রতিভা শুক্লার চিঠির পর প্রশাসন অঙ্গনওয়াড়ি নিয়োগের প্রক্রিয়ায় থাকা দুর্নীতি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সরকার যদি দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এই অভিযোগগুলি আরও বড় আকার নিতে পারে, যা ভবিষ্যতে রাজ্যের সরকারের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
উত্তরপ্রদেশের অঙ্গনওয়াড়ি বিভাগের নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ কেবল রাজনৈতিক নয়, সামাজিকভাবেও একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। রাজ্যের লক্ষ লক্ষ শিশুর ভবিষ্যত এবং তাদের পুষ্টি নির্ভর করে এই বিভাগে কর্মী নিয়োগের সুষ্ঠু প্রক্রিয়া এবং খাবারের মানের উপর। তাই, শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতি চক্র চলছে, তা দ্রুত বন্ধ করা প্রয়োজন। রাজ্য সরকারের কাছে এই বিষয়টির দ্রুত সমাধান হওয়া অপরিহার্য।