মাওবাদী আত্মসমর্পনে ঐতিহাসিক দিন ছত্তিশগড়ে

historic-maoist-surrender-dantewada-chhattisgarh

ছত্তিশগড়: ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়ায় আজ ঐতিহাসিক একটি দিন (Chhattisgarh)। বামপন্থী উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বড় ধাক্কা দিয়ে একদিনে ৬৩ জন ওয়ান্টেড মাওবাদী আত্মসমর্পণ করলেন। এর মধ্যে ৩৬ জনের মাথার দাম মিলিয়ে এক কোটি টাকারও বেশি। এটি ছত্তিশগড়ের ইতিহাসে একদিনে সবচেয়ে বড় মাওবাদী আত্মসমর্পণের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বস্তার অঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়নের পথে এটি একটি নির্ণায়ক পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

আজ সকালে দান্তেওয়াড়ার পুলিশ লাইন প্রাঙ্গণে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে এই ৬৩ জন মাওবাদী নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অস্ত্র সমর্পণ করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সিপিআই (মাওবাদী)-র একাধিক উচ্চপদস্থ ক্যাডার, মিলিশিয়া কমান্ডার এবং সাধারণ সদস্য। সমর্পিত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে এসএলআর, একে-৪৭, ইনসাস রাইফেল সহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এবং আইইডি তৈরির সরঞ্জাম।

   

‘স্বরাষ্ট্র দফতর চলে যাবে জামাতের হাতে!’ বিতর্ক উস্কালেন বাম নেতা

ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই আত্মসমর্পণকে ‘বামপন্থী উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বড় বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটি বস্তারের মানুষের শান্তি ও উন্নয়নের জন্য একটি মাইলফলক। যারা অস্ত্র ছেড়ে মূলস্রোতে ফিরে আসছেন, তাদের আমরা পুনর্বাসনের পূর্ণ সুযোগ দেব।”এই ৬৩ জনের মধ্যে ৩৬ জনের মাথায় মোট এক কোটি আট লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা ছিল।

তাদের মধ্যে কয়েকজনের মাথায় আট লক্ষ টাকা করে পুরস্কার ছিল। এরা বিভিন্ন নাশকতা, পুলিশ-সেনার উপর হামলা এবং লেভি আদায়ের মতো ঘটনায় যুক্ত ছিলেন। সূত্রের খবর, সরকারের ‘লোন ভারত মালা’ পুনর্বাসন নীতি, নিরাপত্তা বাহিনীর অবিরাম চাপ এবং স্থানীয় মানুষের মাওবাদীদের প্রতি ক্রমশ বিরূপ মনোভাব এই সবকিছু মিলিয়ে তারা আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিয়েছেন।

একজন সমর্পিত মাওবাদী বলেন, “আমরা দেখেছি উন্নয়নের কাজ হচ্ছে। রাস্তা, স্কুল, হাসপাতাল হচ্ছে। আর জঙ্গলে লুকিয়ে থেকে লাভ নেই। আমরা পরিবারের কাছে ফিরতে চাই।”দান্তেওয়াড়া এবং বস্তার অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। গত কয়েক বছরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে শতাধিক মাওবাদী নিহত হয়েছে এবং অনেকে আত্মসমর্পণ করেছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নীতির ফলে পুনর্বাসিত মাওবাদীদের চাকরি, টাকা এবং নিরাপত্তার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে আত্মসমর্পণের সংখ্যা বাড়ছে। গত বছরও বস্তারে বড় আত্মসমর্পণ হয়েছিল, কিন্তু আজকের এই সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে।এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন তুলেছে। বিজেপি নেতারা এটিকে মোদী সরকারের সাফল্য বলে দাবি করছেন।

কংগ্রেস অবশ্য বলছে যে, মাওবাদী সমস্যার মূল কারণ উন্নয়নের অভাব এবং আদিবাসীদের অধিকারহরণ সেগুলি সমাধান না হলে আত্মসমর্পণ সাময়িক। তবে স্থানীয় আদিবাসী সমাজ এই আত্মসমর্পণকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলছেন, এর ফলে গ্রামে শান্তি ফিরবে, ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারবে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন