২০২৭ সালে হরিদ্বারে হবে মহাকুম্ভ৷ এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ‘দিব্য ও ঐতিহাসিক’ করে তুলতে জোর প্রস্তুতি শুরু করল উত্তরাখণ্ড সরকার। সেই প্রস্তুতির পর্যালোচনা করতেই শুক্রবার গঙ্গার তীরে প্রথমবারের মতো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির নেতৃত্বে ১৩ আখড়ার আচার্য ও সন্তদের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। কুম্ভ প্রস্তুতি নিয়ে নদীর ধারে এমন বৈঠক এর আগে কখনও হয়নি।
ঘোষিত হল কুম্ভ ২০২৭-এর প্রধান স্নান তারিখ
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন ২০২৭ সালের কুম্ভে স্নানের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলি—
১৪ জানুয়ারি ২০২৭ — মকর সংক্রান্তি
৬ ফেব্রুয়ারি — মৌনী অমাবস্যা
১১ ফেব্রুয়ারি — বসন্ত পঞ্চমী
২০ ফেব্রুয়ারি — মাঘ পূর্ণিমা
৬ মার্চ — মহাশিবরাত্রি (অমৃত স্নান)
৮ মার্চ — ফাল্গুন অমাবস্যা (অমৃত স্নান)
৭ এপ্রিল — নবসম্বত্সর
১৪ এপ্রিল — মেষ সংক্রান্তি (অমৃত স্নান)
১৫ এপ্রিল — শ্রীরাম নবমী
২০ এপ্রিল — চৈত্র পূর্ণিমা
সন্তসমাজের দিকনির্দেশনাই হবে মূল নির্দেশক Haridwar Kumbh Shahi Snan Dates
মুখ্যমন্ত্রী ধামি বলেন, কুম্ভের প্রতিটি পরিকল্পনা এবং সিদ্ধান্তে আচার্য ও সন্তদের প্রথা, প্রয়োজন এবং পরামর্শকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “সন্তসমাজের আশীর্বাদ, পরামর্শ এবং দিকনির্দেশনা ছাড়া এই মহাপ্রস্তুতি অসম্ভব। আমাদের লক্ষ্য ২০২৭ কুম্ভকে আগের চেয়ে আরও বৃহৎ, সুসংগঠিত এবং আধ্যাত্মিকভাবে অনন্য করা।”
তিনি স্মরণ করান, ২০২১ সালের কুম্ভ কোভিডের কারণে সীমিত ছিল এবং শাহী স্নানও প্রতীকীভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু ২০২৭-এর কুম্ভ হবে অভূতপূর্ব ও বৈশিষ্ট্যময়, যা ২০১০ ও ২০২১ সালের কুম্ভের তুলনায় বহু গুণ বেশি ভক্তের আগমন হবে।
উত্তরাখণ্ডকে বিশ্বের আধ্যাত্মিক রাজধানী করার লক্ষ্য
মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশনা অনুযায়ী উত্তরাখণ্ডকে বিশ্বের আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার কুম্ভকে দিব্য, নিরাপদ ও স্মরণীয় করার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে।
নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও পরিকাঠামোতে পূর্ণ প্রস্তুতি
কুম্ভ ২০২৭-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, এনডিআরএফ, পিএসি, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং দমকলসহ সমস্ত সংস্থা একযোগে কাজ করবে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূর্বে কুম্ভ পরিচালনায় অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেওয়া হবে। শহর ও ঘাট এলাকায় পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ দল গঠন করা হবে।
সন্তদের প্রশংসা ও পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস
বৈঠকে উপস্থিত আখড়ার মহন্তরা মুখ্যমন্ত্রীর সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং কুম্ভ প্রস্তুতির পদক্ষেপ প্রশংসা করেন। তারা রাজ্য সরকারের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা নিশ্চিত করেন, যাতে কুম্ভ ২০২৭ সত্যিই দিব্য, নিরাপদ ও স্মরণীয় হয়।
উপস্থিতি
১৩ আখড়ার প্রধান মহন্তরা ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ কল্পনা সাইনি, বিধায়ক মদন কৌশিক, আদেশ চৌহান, প্রদীপ বত্র, হরিদ্বার ও রূরকির মেয়র, বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি স্বামী যতীশ্বরানন্দ, গড়হাল কমিশনার, আইজি, জেলা শাসক এবং অন্যান্য প্রশাসনিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
ঐতিহাসিক মিলনমেলার চিহ্ন
বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী আচার্য ও মহন্তদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ভোজনও সম্পন্ন করেন। গঙ্গার তীরে আয়োজিত এই মিলন প্রমাণ করছে যে ২০২৭ কুম্ভ প্রস্তুতির প্রতিটি স্তরে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, আন্তর্জাতিক মানের সমন্বয় এবং ধর্মীয় সৌন্দর্যের এক অনন্য মিলন নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে।
