মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত জনপ্রিয় এইচ-১বি (H-1B) ভিসার সাক্ষাৎকার এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘসূত্রতা ও নজিরবিহীন জটিলতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MEA) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয় নাগরিকরা যে ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে। নব্য ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ভিসা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ফলে শত শত ভারতীয় পেশাদার এখন ঘোর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ভোগান্তির শিকার কয়েক হাজার ভারতীয়
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, কনসুলার অ্যাপয়েন্টমেন্টের শিডিউল এবং বারবার রি-শিডিউল করার কারণে অনেক ভারতীয় নাগরিক দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে পারছেন না। এই বিলম্ব কেবল পেশাগত জীবনই নয়, বরং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও চরম মানসিক ও আর্থিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
জয়সওয়াল স্পষ্টভাবে বলেন, “যদিও ভিসা সংক্রান্ত বিষয়গুলো যেকোনো দেশের সার্বভৌম অধিকারের আওতাভুক্ত, তবুও আমরা আমাদের নাগরিকদের স্বার্থে নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটন, উভয় জায়গাতেই মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে এই উদ্বেগের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছি।”
নতুন স্ক্রিনিং নিয়ম ও গণ-বাতিল
চলতি মাসের শুরুতেই ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসা আবেদনকারী এবং তাঁদের নির্ভরশীলদের জন্য একটি বাধ্যতামূলক ‘অনলাইন প্রেজেন্স রিভিউ’ বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া চালু করেছে। গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মের অধীনে আবেদনকারীদের তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ‘পাবলিক’ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কড়া নজরদারি প্রক্রিয়ার কারণেই গত কয়েক দিনে নির্ধারিত হাজার হাজার সাক্ষাৎকার হঠাৎ করে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে; অনেকের ক্ষেত্রে এই তারিখ ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত পিছিয়ে গেছে। এর ফলে যারা ছুটির দিনে ভারতে এসেছিলেন, তাঁরা এখন বৈধ ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ের অভাবে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না।
ফি বৃদ্ধি ও লটারি প্রথার পরিবর্তন
গত কয়েক মাসে এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নতুন আবেদনকারীদের জন্য এক লক্ষ মার্কিন ডলারের (প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা) বিশাল ফি নির্ধারণ। এছাড়াও, আগে যেখানে ভাগ্যের ওপর ভিত্তি করে লটারির মাধ্যমে ভিসা দেওয়া হতো, এখন সেখানে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন এবং উচ্চ বেতনের পেশাদারদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে ওয়াশিংটন। এই সব পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে ভারতীয়দের ওপর, কারণ প্রতি বছর ইস্যু করা এইচ-১বি ভিসার প্রায় ৭০ শতাংশই পান ভারতীয় আইটি পেশাদাররা।
বর্তমানে উদ্ভূত এই বিশৃঙ্খলা নিরসনে এবং ভারতীয়দের ওপর থেকে চাপের বোঝা কমাতে ভারত সরকার মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।


