
বছর শেষের উৎসবের মরশুমে পার্টি ও নৈশজীবন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে পর্যটকপ্রিয় রাজ্য উত্তর গোয়াতে এই সময়ে নাইটক্লাব ও পার্টি হাউসের ভিড় তুঙ্গে থাকে। তবে এবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নতুন একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। উত্তর গোয়া জেলা প্রশাসন বুধবার সন্ধ্যায় ঘোষণা করেছে, যে সব নাইটক্লাবে বা পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে আতশবাজি বা ফায়ারওয়ার্কস ব্যবহার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নাইটক্লাবে যে কোনও ধরনের বাজি ব্যবহার করা যাবে না। এতে চিহ্নিত করা হয়েছে ফায়ারওয়ার্কস, পেটার্নস বা অন্য কোনও ধরনের প্রদর্শনী, যা আগুনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এই নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রশাসন মূলত **দূর্ঘটনা রোধ এবং দর্শনার্থী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে** চাইছে।
নাইটক্লাব ও পর্যটন কেন্দ্রে আতশবাজি নিষিদ্ধ: যেকোনো ধরনের বাজি, পটকা, ফায়ারওয়ার্কস বা ক্ষুদ্র বিস্ফোরণ করা যাবে না। উচ্চ জরিমানা ও শাস্তি: নির্দেশনা অমান্য করলে নাইটক্লাব পরিচালন কমিটি বা ব্যক্তিকে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
নিরাপত্তা তদারকি: প্রশাসন নিয়মিত তদারকি চালাবে এবং পর্যটক কেন্দ্রগুলিতে ফায়ারওয়ার্কস ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করবে।
জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, “উৎসবের মরশুমে অনেক সময় আতশবাজি ও ফায়ারওয়ার্কসের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে নাইটক্লাবের মতো ঘন জনবহুল স্থানে আগুনের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। তাই নিরাপত্তার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
গোয়া দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এখানে বছরে লাখ লাখ পর্যটক আসে, এবং নাইটক্লাব ও পার্টি হাউস পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। তবে আগুনের দুর্ঘটনা এবং বাজির কারণে ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা জরুরি হয়ে ওঠে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গোয়ার কিছু নাইটক্লাবে ছোট ছোট আগুনের ঘটনা ঘটেছে। যদিও বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবুও প্রশাসন সতর্কতা অবলম্বন করছে। উৎসবের মরশুমে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, তাই ফায়ারওয়ার্কস নিষিদ্ধ করে **প্রশাসন পর্যটক এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাচ্ছে।**
প্রশাসন জানিয়েছে, যারা এই নির্দেশিকা মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাইটক্লাবের মালিক বা পরিচালন কমিটি জরিমানা, লাইসেন্স স্থগিত বা অন্য শাস্তির মুখে পড়তে পারে।
যদি দুর্ঘটনা ঘটে এবং বাজি ব্যবহার প্রমাণিত হয়, তাহলে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অধিকাংশ ক্লাব মালিক ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিছু উদ্যোক্তা বলছেন, “নিরাপত্তা সব সময় প্রাধান্য পাবে। ফায়ারওয়ার্কস বন্ধ থাকলেও উৎসব আনন্দদায়কভাবে উদযাপন করা সম্ভব।”










