লখনউ: ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় সাহিত্য রক্ষার ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করল (Gita Press)উত্তর প্রদেশ সরকার। যোগী আদিত্যনাথের সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গোরক্ষপুরের ঐতিহ্যবাহী গীতা প্রেসকে মোট ১০ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে, যাতে প্রায় ৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক নতুন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। বহুদিন ধরেই বাড়তে থাকা চাহিদার চাপে বর্তমান প্রেস পর্যাপ্ত হয়ে উঠছিল না। নতুন পরিকাঠামো গড়ে উঠলে গীতা প্রেস আরও বৃহৎ পরিসরে সনাতন ধর্মগ্রন্থের প্রচার বাড়াতে পারবে।
গীতা প্রেস দেশে এবং বিদেশে ধর্মীয় সাহিত্য ছাপার ক্ষেত্রে এক অনন্য প্রতিষ্ঠান। গত শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে গীতা, রামচরিতমানস, ভাগবত, উপনিষদ থেকে শুরু করে তুলোসীদাসের বিভিন্ন রচনা সবই ছাপিয়ে আসছে তারা। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গীতা প্রেস এখন বছরে প্রায় ৩ কোটি বই মুদ্রণ করে। প্রতিষ্ঠা থেকে আজ পর্যন্ত তারা ১০০ কোটিরও বেশি বই ছাপিয়েছে, যার মধ্যে ১৮.৭৫ কোটি গীতা এবং ১৩.২৫ কোটি রামচরিতমানস ও তুলসীদাসের রচনা অন্তর্ভুক্ত।
ফরেক্স রিজার্ভে বড় পতন, তবুও রেকর্ড স্তরের কাছাকাছি ভারত
গত কয়েক বছরে ধর্মীয় সাহিত্য–পাঠের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেড়েছে। ফলে গীতা প্রেসের কাজের পরিমাণও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু ১.৪৫ লাখ বর্গফুটের পুরনো কমপ্লেক্স সেই চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছিল। বহু অর্ডার সময়মতো পৌঁছে দিতে অসুবিধা হচ্ছিল। তাই দীর্ঘদিন ধরেই একটি নতুন, আধুনিক ও বৃহৎ প্রিন্টিং ইউনিটের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে আসছিল গীতা প্রেস। সেই প্রেক্ষিতেই আসে যোগী সরকারের এই বড় সিদ্ধান্ত।
গীতা প্রেসের শৃঙ্খলা ও নীতিনিষ্ঠা দেশের নানা প্রান্তে সম্মানিত। এখানে এখনও বই বাঁধাইয়ের শেষ ধাপের সময় কর্মীরা পা থেকে চটি খুলে ফেলেন—ধর্মীয় গ্রন্থের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এই ঐতিহ্য বহু দশক পুরোনো। সেই সংস্কৃতিকে অটুট রেখেই নতুন কমপ্লেক্সে অত্যাধুনিক প্রিন্টিং মেশিন, ডিজিটাল প্লেট সিস্টেম, উচ্চ ক্ষমতার বাইন্ডিং ইউনিট এবং অটোমেটেড হ্যান্ডলিং সিস্টেম নির্মিত হবে।
যোগী আদিত্যনাথ সরকার জানিয়েছে, উত্তর প্রদেশকে আধ্যাত্মিক–সাংস্কৃতিক মানচিত্রে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও গোরক্ষনাথ পীঠের প্রধান হিসেবে সনাতন ধর্মের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রচারে দীর্ঘদিন যুক্ত। তাঁর উদ্যোগে গীতা প্রেসের অবকাঠামো উন্নয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ধর্মীয় সাহিত্য–বাজারের সঙ্গে যুক্ত বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কমপ্লেক্স তৈরি হলে গীতা প্রেসের উৎপাদন ক্ষমতা কমপক্ষে দ্বিগুণ বাড়তে পারে। শুধু ধর্মীয় বই নয়, সনাতন দর্শন, ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত বহু প্রকাশনাও নতুন পরিসরে মুদ্রিত হতে পারবে। বিশেষ করে তরুণ পাঠকের জন্য আধুনিক ডিজাইনের, সহজ ভাষার, রঙিন সংস্করণের বইও আসতে পারে ভবিষ্যতে।
গোরক্ষপুরে এই জমি বরাদ্দকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। বহু মানুষ মনে করেন, গীতা প্রেস শুধু একটি প্রকাশনাগার নয় ভারতীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং সনাতন সংস্কৃতির বাহক। সেই প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা মানে ভারতের ভিত্তিকে আরও দৃঢ় করা।
নতুন প্রিন্টিং ইউনিটের নির্মাণ শুরু হলে গোরক্ষপুরে বড় আকারের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় অর্থনীতি উপকৃত হবে, বাড়বে ট্যুরিজমও—কারণ গীতা প্রেস দেখতে প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষ গোরক্ষপুরে আসেন। সব মিলিয়ে, উত্তর প্রদেশ সরকারের এই জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত গীতা প্রেসকে শুধু প্রযুক্তিগতভাবে নয়, সাংস্কৃতিকভাবেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
