হাদির নাম নিয়ে POK তে ভারতের বিরুদ্ধে ঘাজওয়া-ই-হিন্দের ডাক

পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে (POK) লস্কর -ই-তৈয়বার (LeT) স্থানীয় শাখা জম্মু কাশ্মীর ইউনাইটেড মুভমেন্ট আবারও ভারতের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। আজ তত্রিনোটে POK…

ghazwa-e-hind-call-pok-anti-india-lashkar

পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে (POK) লস্কর -ই-তৈয়বার (LeT) স্থানীয় শাখা জম্মু কাশ্মীর ইউনাইটেড মুভমেন্ট আবারও ভারতের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। আজ তত্রিনোটে POK তে একটি অনুষ্ঠানে লস্করের শীর্ষ কমান্ডার আমির জিয়া মঞ্চে উঠে ভারতের প্রতি তীব্র ঘৃণা ছড়িয়েছেন।

Advertisements

এই অনুষ্ঠানে শুধু ঘৃণামূলক বক্তব্যই নয়, বাংলাদেশের র‍্যাডিক্যাল নেতা শরীফ ওসমান হাদির শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে প্রতি খোলাখুলি গৌরবগান করা হয়েছে। এটি কোনো সাধারণ শোকসভা নয় ওসমান হাদিকে আদর্শগত সঙ্গী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।ওসমান হাদি বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিপ্লবের অন্যতম মুখপাত্র ছিলেন।

   

‘অযোগ্যরা নয়, সৎ শিক্ষকদেরই সুবিধা’, SSC-র রায় নিয়ে বিস্ফোরক কল‌্যাণ

তিনি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরও ভারতের প্রভাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। গত ডিসেম্বরে ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। বাংলাদেশে তাঁর মৃত্যু নিয়ে ব্যাপক প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু পিওজেকে লস্করের এই অনুষ্ঠানে তাঁকে ‘আমাদের পাশের লোক’ বলে সম্মান জানানো হয়েছে, যা স্পষ্টতই আঞ্চলিক র‍্যাডিক্যাল নেটওয়ার্কের বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়।

অনুষ্ঠানে আমির জিয়া বলেন, “এই আমাদের পাশের লোক, গাই কা পুজারি (গরু-পূজারী), আজ সাহস কোথা থেকে এল যে আজাদ কাশ্মীর (পিওজেকে) জয় করার কথা বলছে?” এই বাক্যে তিনি সরাসরি ভারতীয় নেতৃত্ব ও হিন্দু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে আক্রমণ করেছেন। তিনি রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং জিহাদি গোষ্ঠীগুলোকে একত্রিত হয়ে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান জানান।

বারবার ‘ঘাজওয়া-ই-হিন্দ’-এর ডাক দিয়ে কাশ্মীর দখলের আহ্বান করেন। এই বক্তব্য ভিডিও আকারে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যা ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।জেকেইউএমকে লস্কর-ই-তৈয়বার রাজনৈতিক-সামাজিক ফ্রন্ট হিসেবে দেখা হয়। পিওজেকে এই সংগঠনটি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আড়ালে জিহাদি প্রচার চালায়।

সম্প্রতি লস্করের অন্যান্য কমান্ডারদের মতো আবু মুসা কাশ্মীরি, নাসর জাভেদ প্রমুখও ভারতের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন। এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে পাকিস্তানের মাটিতে এখনও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো খোলাখুলি কাজ করছে, এবং সেনাবাহিনী-আইএসআই-এর সমর্থন ছাড়া এমন বড় অনুষ্ঠান সম্ভব নয়।ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি নতুন নয়।

লস্কর-ই-তৈয়বা ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার মূল অভিযুক্ত। এখনও কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ, হামলা ও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। ‘গাই কা পুজারি’ বলে হিন্দু ধর্মকে অপমান করা শুধু ঘৃণা ছড়ানো নয়, এটি জিহাদি আদর্শের অংশ। ঘাজওয়া-ই-হিন্দের ধারণা অনেক জিহাদি গোষ্ঠীর মধ্যে প্রচলিত, যা ভারতকে ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত করার স্বপ্ন দেখায়।এই বক্তব্যের পর ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সতর্ক হয়েছে।

লাইন অফ কন্ট্রোলের কাছে এমন অনুষ্ঠান মানে নতুন অনুপ্রবেশের পরিকল্পনা হতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে বলছেন, “দেখা বিনোদ, গলির ড্রামা মনে হচ্ছিল, কিন্তু মাস্টার তো পিওজেকে থেকে বেরিয়েছে!” এটি স্পষ্ট যে সন্ত্রাসের মূল উৎস পাকিস্তানের মাটিতে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পাকিস্তান বারবার সন্ত্রাসের আশ্রয়দাতা হিসেবে অভিযুক্ত। এই ঘটনা ফ্যাটএফ-এর গ্রে লিস্ট থেকে বেরোনোর পরও পাকিস্তানের দ্বৈত নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, কিন্তু সীমান্তে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

Advertisements