ইন্দোরের পর মোদী রাজ্যেও বিষাক্ত জলে বাড়ছে টাইফয়েড

gandhinagar-typhoid-outbreak

ইন্দোর: ইন্দোরে জলদূষণজনিত মর্মান্তিক ঘটনার রেশ কাটতে (typhoid outbreak)না কাটতেই একই রকম স্বাস্থ্যসঙ্কটের মুখে গুজরাতের রাজধানী গান্ধীনগর। বিশুদ্ধ পানীয় জলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে রাজ্য জুড়ে। গান্ধীনগরে টাইফয়েডের প্রাদুর্ভাব দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের পরিবার।

স্বাস্থ্য দপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, গান্ধীনগরের একাধিক এলাকায় ইতিমধ্যেই ১০৪টি সন্দেহভাজন টাইফয়েডের ঘটনা সামনে এসেছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে সেক্টর ২৪, ২৫, ২৬, ২৮ এবং আদিবাড়া এলাকা। এই সব এলাকায় মূলত শিশুরাই সংক্রমণের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।

   

স্পেশালিস্ট অফিসার নিয়োগের জন্য আবেদনের সময়সীমা বাড়াল SBI

বর্তমানে গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে ১০৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে গুজরাতের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সঙ্ঘভি নিজে হাসপাতালে পৌঁছে রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন যাতে কোনও রকম চিকিৎসার ঘাটতি না থাকে।

হর্ষ সঙ্ঘভি জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একটি দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক আধিকারিকদের ২৪ ঘণ্টা নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “এই মুহূর্তে ১০৪টি সন্দেহভাজন টাইফয়েডের ঘটনা সামনে এসেছে। প্রশাসন দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে এবং চিকিৎসা ও নজরদারি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে।” পাশাপাশি রোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য আরও ভালো পরিকাঠামো ও সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, গত ৭২ ঘণ্টায় গান্ধীনগরে টাইফয়েডের সংক্রমণ প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এই দ্রুত বৃদ্ধির হার প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গান্ধীনগর পুরনিগম একযোগে বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে। ৬৩টি নজরদারি দল গঠন করে বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য সমীক্ষা শুরু হয়েছে। সন্দেহভাজন উপসর্গ থাকলেই দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এই ঘটনার সঙ্গে ইন্দোরের সাম্প্রতিক জলদূষণ ট্র্যাজেডির মিল খুঁজে পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ইন্দোরে মূল পানীয় জলের পাইপলাইনে ফাটল ধরে নিকাশি জল মিশে যাওয়ায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ওই ঘটনায় একাধিক মানুষের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

ইন্দোরের জেলাশাসক শিবম ভার্মা জানিয়েছেন, ভগীরথপুরা এলাকায় দূষিত জল পান করার ফলে বর্তমানে ১৪৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে ৬৫ জনের মধ্যে বমি সহ হালকা উপসর্গ দেখা গিয়েছিল, যাদের মধ্যে ১৭ জনকে ভর্তি করতে হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ হাজারেরও বেশি বাড়িতে সমীক্ষা চালানো হয়েছে।

শিবম ভার্মা আরও জানান, ভগীরথপুরা এলাকায় জল পরীক্ষা ও নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে। জলাধার ও চেম্বার পরিষ্কার করা হচ্ছে এবং আপাতত ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে বিশুদ্ধ জল সরবরাহ করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে সিদ্ধ জল পান করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। ইন্দোরের ঘটনার পর মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি সমস্ত আক্রান্তের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

একাধিক রাজ্যে এই ধরনের জলদূষণ ও সংক্রমণের ঘটনা ফের একবার প্রশ্ন তুলে দিল পানীয় জলের পরিকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিয়ে। গান্ধীনগর ও ইন্দোরের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন