
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Draupadi Murmu) স্বাক্ষরের মাধ্যমে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল কেন্দ্রের প্রস্তাবিত গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প সংক্রান্ত জি রাম জি বিল। দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা মনরেগাকে কার্যত সরিয়ে বা তার জায়গায় বিকল্প হিসেবে এই নতুন প্রকল্প আনার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি করেছে। রাষ্ট্রপতির সইয়ের পর এই বিল এখন আইনে পরিণত হয়েছে এবং শীঘ্রই দেশজুড়ে কার্যকর হওয়ার পথে এগোচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, মনরেগা প্রকল্প গ্রামীণ কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিলেও বর্তমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বাস্তবতায় তার কাঠামো অনেকটাই পুরনো হয়ে গেছে। সেই সীমাবদ্ধতাগুলি কাটিয়ে উঠতেই ‘জি রাম জি’ (গ্রামীণ রোজগার ও আধুনিক জীবিকা) প্রকল্পের ভাবনা। এই নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ ভারতের কর্মসংস্থান ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং টেকসই করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
জি রাম জি প্রকল্পে শুধুমাত্র মজুরিভিত্তিক কাজ নয়, বরং দক্ষতা উন্নয়ন, স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠন, ক্ষুদ্র শিল্প, কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ এবং গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এতে গ্রামে বসেই দীর্ঘমেয়াদি রোজগারের সুযোগ তৈরি হবে এবং শহরমুখী শ্রমিকদের চাপও কমবে। ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন, আধার-সংযুক্ত পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং প্রকল্প পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এই প্রকল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার এই সমালোচনাকে গুরুত্ব দিলেও আশ্বাস দিয়েছে যে নতুন প্রকল্পে গ্রামীণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে। সরকারের বক্তব্য, জি রাম জি শুধুমাত্র কাজ দেওয়ার প্রকল্প নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার একটি সামগ্রিক রূপরেখা। এতে গ্রামীণ যুবসমাজের দক্ষতা বাড়বে, মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি আরও শক্তিশালী হবে এবং স্থানীয় উৎপাদন ব্যবস্থার প্রসার ঘটবে।










