১০,০০০ কোটি টাকায় ৩টি বোম্বার্ডিয়ার গ্লোবাল-৬৫০০ বিমানের প্রস্তুতি সম্পন্ন DRDO-র

Bombardier Global 6500

নয়াদিল্লি, ১৭ ডিসেম্বর: ভারতীয় বিমান বাহিনী (Indian Air Force) এবার একটি কমান্ড এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করছে। এটি যুদ্ধ এবং শান্তির সময় উভয় সময়েই আকাশপথে নজরদারি সক্ষম করবে। এটি বিমান বাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারি ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এর জন্য, ১০,০০০ কোটি টাকার একটি বড় পরিকল্পনার আওতায়, ভারতীয় বাহিনী তিনটি অত্যাধুনিক বোম্বার্ডিয়ার গ্লোবাল-৬৫০০ (Bombardier Global-6500) বিমানকে বিশেষ সামরিক ঘাঁটিতে রূপান্তর করবে। এই বিমানটি আকাশে উড়ন্ত জেট বিমান হবে না, বরং আকাশে উড়ন্ত একটি কমান্ড এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হবে।

বোম্বার্ডিয়ার গ্লোবাল হবে রাষ্ট্রপ্রধানদের বিমানের মতো। এটি রাডার এবং ক্ষেপণাস্ত্র এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখবে। ডিআরডিও ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য এই পুরো প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং এটি ভারতের স্বনির্ভর প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির দিকে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

   

ISTAR মিশন কী?
এই বিমানগুলি ISTAR (Intelligence, Surveillance, Target Acquisition and Reconnaissance) সিস্টেম দিয়ে সজ্জিত থাকবে। এর অর্থ হল, বোম্বার্ডিয়ার গ্লোবাল শত্রুর কার্যকলাপ ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করবে। সীমান্তের শত শত কিলোমিটার গভীরে, এমনকি সীমান্তের ওপার থেকেও ভারতের দৃশ্যমানতা থাকবে। এর ফলে রিয়েল-টাইম লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ এবং শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। যুদ্ধকালীন সময়ে এই বিমানগুলি “আকাশে চোখ” হিসেবে কাজ করবে।

কেন Bombardier Global-6500 বেছে নেওয়া হয়েছে?
গ্লোবাল-৬৫০০ হল একটি কানাডিয়ান বিজনেস জেট যা সাধারণত বিলাসবহুল ফ্লাইটের জন্য পরিচিত, কিন্তু এর বৈশিষ্ট্যগুলি এটিকে সামরিক মিশনের জন্য উপযুক্ত করে তোলে। এটি একবার জ্বালানি ভরে ১২,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। এটি একটি যুদ্ধবিমানের মতো ৫১,০০০ ফুট উচ্চতায়ও উড়তে পারে। এটি প্রায় ১২ ঘন্টা ধরে আকাশপথে নজরদারি বজায় রাখতে পারে। এর একটি বড় কেবিন রয়েছে যা সহজেই সমস্ত সরঞ্জাম ধারণ করতে পারে। এত উচ্চতায় উড়লে শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষার ঝুঁকিও কমে।

যুদ্ধের সময়, বিশেষ করে পাকিস্তান ও চিন সীমান্তে নজরদারির জন্য বোম্বার্ডিয়ার গ্লোবাল সামরিক বাহিনীর জন্য কার্যকর হবে। কারণ পাকিস্তান সন্ত্রাসীদের পাঠায়। এদিকে, চিন প্রায়ই সীমান্তে অনুপ্রবেশ করে। এই দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বেশ কঠিন, যার ফলে নজরদারি করা কঠিন।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন