
প্রয়াত প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিবরাজ পাটিল৷ বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। মহারাষ্ট্রের লাতুরে নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান নেতা। তাঁর পরিবারে রয়েছেন পুত্র শৈলেশ পাটিল, পুত্রবধূ অর্চনা এবং দুই নাতনি।
২০০৪ থেকে ২০০৮— ইউপিএ–১ সরকারের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছিলেন শিবরাজ পাটিল। ২৬/১১ মুম্বই সন্ত্রাস হানার সময় তিনি ছিলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী; সেই ঘটনার পরই পদত্যাগ করেছিলেন পাটিল। এর আগে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬— দশম লোকসভার স্পিকারের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। পরে ২০১০ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ছিলেন পাঞ্জাবের রাজ্যপাল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল চণ্ডীগড়ের প্রশাসক।
শোকপ্রকাশ করলেন মোদী
প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃত্যুসংবাদে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, “শ্রী শিবরাজ পাটিলজির প্রয়াণে ব্যথিত। দীর্ঘ জনজীবনে তিনি বিধায়ক, সাংসদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং মহারাষ্ট্র বিধানসভার স্পিকারসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সমাজকল্যাণে তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। কয়েক মাস আগেই আমার বাসভবনে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল। তাঁর পরিবার-পরিজনের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। ওম শান্তি।”
শোকপ্রকাশ করেছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, “প্রবীণ কংগ্রেস নেতা, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও লোকসভা স্পিকার শিবরাজ পাটিলজির প্রয়াণ অত্যন্ত মর্মান্তিক। ঈশ্বর তাঁর আত্মাকে শান্তি দিন। তাঁর পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি রইল গভীর সমবেদনা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকসহ বহু দফতরের দায়িত্ব সামলে পাটিলজি দীর্ঘ দশক ধরে জনসেবা করেছেন। তাঁর প্রয়াণ কংগ্রেস পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি।”
এক উজ্জ্বল রাজনৈতিক জীবনের সাক্ষর Former Home Minister Shivraj Patil Death
১৯৩৫ সালের ১২ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের লাতুরে জন্ম শিবরাজ পাটিলের। ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান নিয়ে স্নাতক এবং মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন পাশ করার পর সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ। লাতুরের পৌর কাউন্সিল প্রধান হিসেবে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা, পরে রাজ্য রাজনীতিতে দ্রুত উত্থান— ১৯৭২ সালে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হন এবং ১৯৭৮ সালে ফের জয় পান। রাজ্য রাজনীতিতে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, আইন মন্ত্রকের ডেপুটি মন্ত্রী— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।
১৯৮০ সালে লাতুর কেন্দ্র থেকে প্রথমবার লোকসভায় নির্বাচিত হন শিবরাজ পাটিল। এরপর টানা সাতবার— ১৯৮০, ১৯৮৪, ১৯৮৯, ১৯৯১, ১৯৯৬, ১৯৯৮ ও ১৯৯৯— জয়ী হয়ে লাতুরকে দিল্লির রাজনীতিতে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান। ২০০৪ সালে বিজেপির রূপতাই পাটিল নিলাঙ্গেকরের কাছে পরাজয়ের মাধ্যমে শেষ হয় তাঁর জয়ের ধারা।
সামলেছেন একাধিক মন্ত্রক
কেন্দ্রে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক সামলেছেন তিনি— প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী (১৯৮০–৮২), বাণিজ্য মন্ত্রক (১৯৮২–৮৩), বিজ্ঞান–প্রযুক্তি, পরমাণু শক্তি, ইলেকট্রনিক্স, মহাকাশ ও সাগর উন্নয়ন (১৯৮৩–৮৪), রাজীব গান্ধীর মন্ত্রিসভায় কর্মীবিভাগ ও প্রতিরক্ষা উৎপাদন দফতর।
মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার শিবরাজ পাটিলের প্রয়াণকে “এক সুশিক্ষিত, মার্জিত ও সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্বের অপূরণীয় ক্ষতি” বলে বর্ণনা করেছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শালীনতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সাংসদীয় সৌজন্যের জন্য পরিচিত ছিলেন শিবরাজ পাটিল। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের ইতি ঘটল।










