ভারতকে বিচ্ছিন্ন না করে ছাড়বেন না প্রাক্তন সেনাকর্তা

ঢাকা: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্য অসম, (Northeast)অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরা কে বিচ্ছিন্ন করার দাবি করে বাংলাদেশের এক প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তার বিতর্কিত…

former-bangladesh-army-officer-threatens-india-northeast

ঢাকা: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্য অসম, (Northeast)অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরা কে বিচ্ছিন্ন করার দাবি করে বাংলাদেশের এক প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তার বিতর্কিত মন্তব্য সারা দক্ষিণ এশিয়ায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বাংলাদেশ আর্মির প্রাক্তন মেজর আবদুল্লাহ আজমি নামে পরিচিত এই ব্যক্তি বলেছেন যে ভারতকে টুকরো টুকরো না করে ছাড়বেন না।

Advertisements

তার কথায়, “ভারত ভেঙে না গেলে বাংলাদেশের পূর্ণ শান্তি আসবে না। আমি থামব না যতক্ষণ না ভারত খণ্ডিত হয়।” এই মন্তব্য ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। আবদুল্লাহহিল আমান আজমি বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আজমের ছেলে।

   

মাঠের লড়াই থেকে রাষ্ট্রীয় সম্মান, পদ্মমুকুটে রোহিত-হরমনপ্রীতের সঙ্গে কারা?

তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (এক তারকা অফিসার) এবং মানবাধিকার কর্মী হিসেবে পরিচিত। ২০১৬ সালে শেখ হাসিনার সরকারের সময় তাকে গুম করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল, এবং ২০২৪ সালের আগস্টে রহস্যজনকভাবে মুক্তি পান। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি একটা র‌্যাডিক্যাল কণ্ঠ হিসেবে উঠে এসেছেন।

তার এই মন্তব্য সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উত্তেজনার মধ্যে এসেছে, যেখানে বাংলাদেশের ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহও সেভেন সিস্টার্স নিয়ে বিতর্কিত কথা বলেছেন।আজমির বক্তব্যে বলা হয়েছে যে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হলে অঞ্চলের শান্তি ফিরে আসবে।

তিনি ভারতকে দায়ী করে বলেছেন যে ১৯৭৫-১৯৯৬ সালের চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টসের অশান্তির জন্য ভারত দায়ী। এই মন্তব্য ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনারকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। অনেকে এটাকে সরাসরি ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে হুমকি বলে দেখছেন।

ভারতীয় মিডিয়ায় এই খবর ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে, এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কিছু গোষ্ঠীর উত্থানের প্রতিফলন।বাংলাদেশের সরকার বা অফিসিয়াল কোনো মহল এখনও এই মন্তব্যের ওপর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। কেউ কেউ আজমিকে সমর্থন করে বলছেন যে এটা ভারতের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

অন্যরা বলছেন, এ ধরনের কথা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও খারাপ করবে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের ইতিহাস রয়েছে, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত। এমন মন্তব্য সেই অশান্তির আগুন জ্বালানোর চেষ্টা বলে অনেকে মনে করছেন।ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে এ ধরনের উসকানিমূলক কথা দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাসের সংকট তৈরি করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এমন কণ্ঠ উঠে আসা স্বাভাবিক, কিন্তু এতে দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং অভিবাসনের মতো বিষয়ে প্রভাব পড়তে পারে। আজমির এই বক্তব্য শুধু একজন ব্যক্তির কথা নয় এটা বাংলাদেশের কিছু অংশের মনোভাবের প্রতিফলন হতে পারে।

Advertisements