ভারতের সংসদে লুকিয়ে পাক রাজনীতিবিদ! বিস্ফোরক মোদীর মন্ত্রী

Kiren Rijiju

ভারতের রাজনৈতিক আকাশে আজ একটি বিস্ফোরক বিষয় উঠে এসেছে, যা দেশের সংসদ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র তর্কের সৃষ্টি করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরণ রিজিজু (Kiren Rijiju) একটি বিচলিতকর বক্তব্যে জানিয়েছেন যে, একজন পাকিস্তানি রাজনীতিবিদের দাবি আছে যে তাদের লোকজন বর্তমানে ভারতের সংসদে বসে আছে। এই অভিযোগটি সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচণ্ড আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং এটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

কিরণ রিজিজু, যিনি বর্তমানে ভারতের সংসদীয় কার্য বিভাগ ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, এই বিষয়টি একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তুলে ধরেন। তিনি লিখেছেন, “একজন পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ বলেছেন, ‘আমাদের লোকজন ভারতের সংসদে বসে আছে।’ কে? এই প্রশ্নটি এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।” এই পোস্টটি শেয়ার করার পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কংগ্রেস পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে ‘নিরাধার’ ও ‘রাজনৈতিক প্রপঞ্জনা’ হিসেবে উপেক্ষা করা হয়েছে, যেখানে বিজেপি সমর্থকরা এটিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছেন।

   

ঐতিহাসিক পটভূমি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সীমানা বিরোধ ও রাজনৈতিক কলহের ইতিহাস আছে। ২০১৩ সালে, যখন একজন ভারতীয় সৈনিকের মাথা কাটা হয়েছিল, তখন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সঙ্গে সভ্য আচরণের ভিত্তিতে কথা বলার দাবি জানিয়েছিলেন। তবে, বর্তমান অভিযোগটি এই পুরনো শত্রুতার একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। রিজিজুর এই বক্তব্যের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ দেওয়া হয়নি, তবে এটি রাহুল গান্ধী ও তাঁর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একটি পরোক্ষ আক্রমণ হিসেবে বিশ্লেষিত হচ্ছে।

২০২৩ সালে, রিজিজু রাহুল গান্ধীকে ‘ভারত-বিরোধী গোষ্ঠীর’ অংশ হিসেবে অভিযুক্ত করেছিলেন, যিনি পাকিস্তানের ভাষ্যকে সমর্থন করছেন। এই নতুন অভিযোগটি সেই আক্রমণের একটি সম্ভাব্য প্রসারণ হতে পারে। এর ফলে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ছবি ও মিম শেয়ার করা হচ্ছে, যেখানে রাহুল গান্ধী ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে পাকিস্তানি নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকে প্রশ্নের ঘেরাও করা হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে, বিশেষ করে এক্সে, এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র তর্কাতর্কি চলছে। কিছু ব্যবহারকারী রিজিজুর বক্তব্যকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করছেন এবং এটিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস সমর্থকরা এই অভিযোগকে ‘নকল খবর’ ও ‘ভাজপার রাজনৈতিক ফন্দি’ হিসেবে উপেক্ষা করছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “যদি এটি সত্যি হয়, তবে প্রশ্ন হলো—কে তাদের ভিতরে ঢুকতে দিয়েছে এবং তারা এখনো কেন সেখানে বসে আছে?” এই প্রশ্নটি এখন জনগণের মনে উঠে এসেছে।

কিছু পোস্টে পুরনো ছবি শেয়ার করা হয়েছে, যেখানে গান্ধী পরিবারের সদস্যদের পাকিস্তানি নেতাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। তবে, এই ছবিগুলোর প্রমাণিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, এই ধরনের অভিযোগ প্রায়ই ভোটারদের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে আগামী নির্বাচনের আগে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে বলছেন যে, এই ধরনের অভিযোগের পেছনে প্রমাণের অভাব দেখা যাচ্ছে। একজন বিশ্লেষক বলেন, “ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়ে গবেষণা দেখিয়েছে যে, এই ধরনের দাবি সাধারণত অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ের একটি অংশ হয়ে ওঠে। এটি সরাসরি বিদেশী হস্তক্ষেপের প্রমাণ নয়।” তবে, এই বিষয়টি নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গভীর তদন্তের দাবি উঠেছে।

কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া
কংগ্রেস পক্ষ থেকে এই অভিযোগের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি ভারতীয় জনগণের মনে ভীতি সৃষ্টি করার একটি চেষ্টা। রাহুল গান্ধী এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে তাঁর সমর্থকরা বলছেন যে, এটি বিজেপির একটি রাজনৈতিক কৌশল মাত্র।

ভারতের সংসদে পাকিস্তানি রাজনীতিবিদের উপস্থিতির অভিযোগটি এখনো রহস্যে আবৃত। কিরণ রিজিজুর এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি নতুন ঝড় তুলেছে। জনগণ এখন এই প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে—এটি সত্যি নাকি রাজনৈতিক প্রপঞ্জনা? আগামী দিনে এই বিষয়ে আরও তথ্য উদঘাটন হতে পারে, তবে এটি ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে রেকর্ড করা হবে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন