ইডির তল্লাশিতে তোলপাড় ছত্তিসগড়, ৯টি এলাকায় চলছে অভিযান

ছত্তিসগড়ে ফের বড়সড় অভিযানে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)(ED RAID) । রাজ্যের মোট ৯টি এলাকায় একযোগে হানা দিয়ে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। এই অভিযানের কেন্দ্রে রয়েছে…

ED Steps Up Probe with Raids in 9 Locations Across Chhattisgarh

ছত্তিসগড়ে ফের বড়সড় অভিযানে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)(ED RAID) । রাজ্যের মোট ৯টি এলাকায় একযোগে হানা দিয়ে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। এই অভিযানের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতমালা প্রকল্পের আওতায় রায়পুর–বিশাখাপত্তনম অর্থনৈতিক করিডর নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রকল্প ঘিরে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার তদন্তের গতি বাড়াল ইডি।

Advertisements

সূত্রের খবর, রায়পুর থেকে বিশাখাপত্তনম পর্যন্ত অর্থনৈতিক করিডর নির্মাণের জন্য বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। সেই সময় জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম ভেঙে বেআইনি লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রকৃত জমির দামের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। আবার কোথাও কোথাও প্রকৃত জমির মালিকদের বঞ্চিত করে ভুয়ো নথির মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

   

এই মামলায় ছত্তিসগড়ের বিভিন্ন জেলায় মোট ৯টি জায়গায় ইডি একযোগে অভিযান চালাচ্ছে। সরকারি আধিকারিক, জমি দালাল, ঠিকাদার এবং প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়ি ও অফিসে চলছে তল্লাশি। ইডি আধিকারিকরা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, মোবাইল ফোন এবং ডিজিটাল ডিভাইস খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গেছে। এই অভিযানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা রয়েছে তল্লাশি চলা এলাকা।

প্রসঙ্গত, ভারতমালা প্রকল্প দেশের অন্যতম বৃহৎ পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে দ্রুত ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। রায়পুর–বিশাখাপত্তনম অর্থনৈতিক করিডরও সেই প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই করিডর নির্মিত হলে ছত্তিসগড়, ওডিশা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও মজবুত হওয়ার কথা। কিন্তু সেই উন্নয়ন প্রকল্পেই যদি দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে বড়সড় ধাক্কা দেয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইডি সূত্রে জানা গেছে, এই তদন্ত মূলত মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় চলছে। জমি অধিগ্রহণে অনিয়মের মাধ্যমে যে বিপুল অঙ্কের টাকা তছরুপ হয়েছে, সেই অর্থ কোথায় গিয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে যুক্ত—তা খতিয়ে দেখাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। ইতিমধ্যেই কিছু সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের হদিশ মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।

এই অভিযান ঘিরে ছত্তিসগড়ের রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধী দলগুলি বিষয়টি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তাদের দাবি, এই ধরনের বড় প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতি চলছিল, এবার তা প্রকাশ্যে আসছে। অন্যদিকে, রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং দোষী প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

Advertisements