
লখনউ: উত্তরপ্রদেশের এক প্রাক্তন মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ (ED PMLA case)এনে এবার মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (PMLA)–এর আওতায় মামলা দায়ের করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। অভিযুক্তের নাম শামসুল হুদা খান। অভিযোগ, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করে দীর্ঘদিন ব্রিটেনে বসবাস করলেও তিনি বেআইনিভাবে ভারতের সরকারি কোষাগার থেকে নিয়মিত বেতন তুলেছেন।
ইডির তদন্তে উঠে এসেছে, শামসুল হুদা খান এক সময় উত্তরপ্রদেশের একটি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু চাকরি ছাড়ার কোনও সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই তিনি দেশ ছেড়ে ব্রিটেনে চলে যান এবং সেখানেই ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। তবুও সরকারি নথিতে তাঁর নাম সক্রিয় কর্মী হিসেবেই থেকে যায় এবং বছরের পর বছর তিনি সরকারি বেতন পেতে থাকেন বলে অভিযোগ।
একা ইসরো নয়, ২০২৬ সালে মহাকাশে ভারতের সঙ্গে ইতিহাস তৈরি করবে বেসরকারি সংস্থাগুলিও
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এইভাবে অবৈধভাবে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ শুধু বেতন বাবদ নয়, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সম্পত্তি ও বিনিয়োগ। ইডি সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ৩৩ কোটি টাকার সম্পদের হদিস মিলেছে, যার উৎস ও ব্যবহার নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। এই সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ভারত ও বিদেশে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, স্থাবর সম্পত্তি এবং আর্থিক বিনিয়োগ।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, এই অর্থের একটি অংশ পাকিস্তানভিত্তিক কিছু নেটওয়ার্কের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত প্রমাণ সামনে আসেনি, তবে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইডি।
ইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মামলায় শুধুমাত্র বেতন জালিয়াতিই নয়, বরং মানি লন্ডারিং, সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য যোগসূত্র সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (FEMA) এবং অন্যান্য আইনের ধারাও যুক্ত হতে পারে।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। বিরোধীদের একাংশের দাবি, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের নিয়োগ ও নজরদারিতে বড়সড় ফাঁকফোকর রয়েছে, যার সুযোগ নিয়েই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও ব্যক্তি বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করার পরেও যদি তিনি ভারতের সরকারি বেতন বা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন, তা শুধুমাত্র আর্থিক অপরাধ নয়, বরং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুতর বিষয়। বিশেষ করে যদি সেই অর্থ বিদেশি বা শত্রু রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত কোনও নেটওয়ার্কে পৌঁছে থাকে, তাহলে বিষয়টি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, শামসুল হুদা খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করার পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে এই মামলায় আরও গ্রেফতার বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে, এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে সরকারি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নজরদারি নিয়ে, যেখানে একজন ব্যক্তি বিদেশে বসবাস করেও বছরের পর বছর সরকারি অর্থ ভোগ করতে সক্ষম হন।










