ED Initiates Investigation into Ayushman Bharat in Jharkhand
কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত (ayushman bharat) প্রকল্পে কথিত অনিয়মের তদন্তে শুক্রবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) একাধিক রাজ্যে অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযানে ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বান্না গুপ্তার ব্যক্তিগত সচিব ওম প্রকাশ সিং-এর বাড়িও তল্লাশি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, ফেডারেল তদন্ত সংস্থার আধিকারিকরা প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর আওতায় ঝাড়খণ্ড, দিল্লি এবং পশ্চিমবঙ্গে মোট ২১টি স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছেন।
অভিযান সকাল থেকেই শুরু হয়েছে এবং এতে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর একটি নিরাপত্তা দল ইডি আধিকারিকদের সঙ্গে ছিল। ওম প্রকাশ সিং-এর বাড়ি ছাড়াও “মূল সন্দেহভাজন” ব্যক্তিদের বাড়ি এবং অফিসে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এই সন্দেহভাজনদের মধ্যে রয়েছেন পরামর্শদাতা, সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রাক্তন কর্মকর্তারা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। ইডি সূত্র জানিয়েছে, এই তদন্তে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের একটি জটিল জাল উন্মোচনের চেষ্টা চলছে।
আয়ুষ্মান ভারত (ayushman bharat)
আয়ুষ্মান ভারত (ayushman bharat)-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (পিএমজেএওয়াই) হল কেন্দ্রীয় সরকারের একটি ফ্ল্যাগশিপ স্বাস্থ্য প্রকল্প, যার মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলিকে প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এই প্রকল্পে প্রায় ১২.৩ কোটি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে, ঝাড়খণ্ডে এই প্রকল্পে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, যা ইডি-র তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
ইডি-র তদন্তে উঠে এসেছে যে, হাসপাতালে রোগী ভর্তি না করেই মিথ্যা দাবি তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই জালিয়াতির সঙ্গে হাসপাতালের তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়ায় হেরফের এবং কমিশন ও ঘুষের একটি নেটওয়ার্ক জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্তে জড়িত সূত্র জানিয়েছে
তদন্তে জড়িত সূত্র জানিয়েছে, ঝাড়খণ্ড স্টেট আরোগ্য সোসাইটি (জেএসএএস)-এর কিছু আধিকারিক এবং পরামর্শদাতা এই জালিয়াতিতে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও, থার্ড পার্টি অ্যাসেসমেন্ট (টিপিএ) সংস্থা যেমন এমডি ইন্ডিয়া, সেফওয়ে এবং মেডি অ্যাসিস্ট-এর কর্মী ও অফিসেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।
এই তদন্তের সূত্রপাত হয়েছে ২০২৩ সালে ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহালেখা পরীক্ষক (সিএজি)-এর একটি রিপোর্ট থেকে। সংসদে উপস্থাপিত এই রিপোর্টে আয়ুষ্মান ভারত (ayushman bharat) প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়, ঝাড়খণ্ডে মৃত ব্যক্তিদেরও চিকিৎসাধীন হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং তাদের নামে অর্থ দাবি করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনের পর ইডি একটি এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট
(ইসিআইআর) দায়ের করে এবং পিএমএলএ-এর অধীনে তদন্ত শুরু করে।
ঝাড়খণ্ডে অভিযানের মধ্যে রাঁচির একাধিক এলাকা যেমন অশোক নগর, পিপি কম্পাউন্ড, এডালহাতু, বারিয়াতু, লালপুর এবং চিরৌন্দিতে তল্লাশি চলছে। এছাড়াও, দিল্লি এবং পশ্চিমবঙ্গের দুটি স্থানেও সমান্তরাল অভিযান চালানো হয়েছে। তদন্তকারী দল নথি, আর্থিক রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টায় রয়েছে। সূত্রের খবর, এই জালিয়াতির মাধ্যমে উৎপন্ন অর্থের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বান্না গুপ্তার ব্যক্তিগত সচিব ওম প্রকাশ সিং-এর বাড়িতে অভিযান এই তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে, এখনও পর্যন্ত গুপ্তা বা সিং-এর পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তামিলনাড়ুতে বিজেপি সভাপতি পদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই আন্নামালাই
রাজনৈতিক মহলে এই অভিযান নিয়ে আলোচনা
রাজনৈতিক মহলে এই অভিযান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাকে সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই প্রকল্প দরিদ্রদের জন্য একটি গেম-চেঞ্জার। কিন্তু এই ধরনের জালিয়াতি প্রকল্পের উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করে দিতে পারে। সিএজি রিপোর্টে উল্লেখিত অনিয়মগুলির মধ্যে রয়েছে অস্তিত্বহীন রোগীদের নামে দাবি, হাসপাতালে ভর্তি ছাড়াই অর্থের আত্মসাৎ এবং প্রকল্পের নির্দেশিকা লঙ্ঘন।
সামাজিক মাধ্যমে এই অভিযান নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া
সামাজিক মাধ্যমে এই অভিযান নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “আয়ুষ্মান ভারতের মতো প্রকল্পে দুর্নীতি লজ্জার বিষয়। দরিদ্রদের জন্য এই টাকা ছিল।” আরেকজন লিখেছেন, “ইডি-র এই পদক্ষেপ স্বাগতযোগ্য, কিন্তু এর শিকড়ে যেতে হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তদন্ত ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একজন বিশ্লেষক বলেন, “এই ঘটনা শাসক দলের জন্য বিড়ম্বনার কারণ হতে পারে। বিরোধীরা এটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে।” তবে, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
ইডি জানিয়েছে, তারা এই জালিয়াতির পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী দিনে আরও গ্রেপ্তারি বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হতে পারে। এই ঘটনা স্বাস্থ্য প্রকল্পে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির গুরুত্বকে আরও একবার সামনে এনেছে।