ইতিহাসে প্রথমবার প্রজাতন্ত্রে নয়া চমক মোদী সরকারের

ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষমতায় এক ঐতিহাসিক (DRDO)সংযোজন হতে চলেছে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজে। প্রথমবারের জন্য রাজপথে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে ডিআরডিও (DRDO)-র তৈরি Long-range Anti-Ship Hypersonic Glide…

drdo-hypersonic-anti-ship-missile-republic-day-parade

ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষমতায় এক ঐতিহাসিক (DRDO)সংযোজন হতে চলেছে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজে। প্রথমবারের জন্য রাজপথে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে ডিআরডিও (DRDO)-র তৈরি Long-range Anti-Ship Hypersonic Glide Missile। এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র মূলত ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রয়োজন মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে এবং একে ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ‘গেম চেঞ্জার’ বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

Advertisements

ডিআরডিও-র ASL (Advanced Systems Laboratory) প্রকল্প পরিচালক এ প্রসাদ গৌড় জানিয়েছেন, এই মিসাইলের সবচেয়ে বড় শক্তি হল এর হাইপারসনিক গতি। শব্দের গতির পাঁচ গুণেরও বেশি বেগে চলতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুপক্ষের আধুনিক রাডার ব্যবস্থাকেও ফাঁকি দিতে পারে। ফলে শত্রু জাহাজ বা নৌবহর আক্রমণের আগেই এই মিসাইলকে শনাক্ত করা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

   

রাজ্য সরকারের বড় সিদ্ধান্তে বিরোধীদের ৪৫ পেরনোর রাস্তাও বন্ধ?

প্রসাদ গৌড় আরও জানান, এই হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইলের রেঞ্জ প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার। অর্থাৎ, শত্রুপক্ষের জলসীমায় প্রবেশ না করেই বহু দূর থেকে আঘাত হানতে সক্ষম হবে ভারতীয় নৌবাহিনী। শুধু তাই নয়, এই মিসাইল বিভিন্ন ধরনের পেলোড বহনে সক্ষম, যা শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ, এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার বা গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটিকে ধ্বংস করতে পারবে।

এই ক্ষেপণাস্ত্র উচ্চ বায়ুগতীয় দক্ষতা (high aerodynamic efficiency) বজায় রেখে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে পারে। হাইপারসনিক গতিতে চলার ফলে এটি মাঝপথে দিক পরিবর্তন করতেও সক্ষম, যা একে প্রচলিত ব্যালিস্টিক মিসাইলের তুলনায় অনেক বেশি ভয়ংকর করে তোলে। সমুদ্রের বুকে মোতায়েন শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজগুলির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যত অকেজো করে দিতে পারে এই প্রযুক্তি।

ডিআরডিও সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইলই নয়, পাশাপাশি হাইপারসনিক ক্রুজ মিসাইল প্রযুক্তি নিয়েও একযোগে কাজ চলছে। এই দুই প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়ন ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করবে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে এই ধরনের অস্ত্র ভারতের কৌশলগত শক্তিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দেবে।

প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে এই মিসাইলের প্রদর্শন শুধুমাত্র একটি অস্ত্র প্রদর্শন নয়, বরং এটি ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা নীতিরও প্রতীক। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আওতায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই হাইপারসনিক মিসাইল বিশ্বদরবারে ভারতের বৈজ্ঞানিক ও সামরিক সক্ষমতার স্পষ্ট বার্তা দেবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মিসাইলের অন্তর্ভুক্তির ফলে ভারত বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের তালিকায় প্রবেশ করবে, যারা হাইপারসনিক অস্ত্র প্রযুক্তিতে দক্ষ। সমুদ্রপথে ভারতের স্বার্থ রক্ষায় এটি এক নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে যেখানে গতি, নিখুঁত আঘাত ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ মিলিয়ে ভারত আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

Advertisements