ডোডাতে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পড়ল সমস্ত ট্যুরিস্ট স্পট

doda-tourist-spots-under-tight-security

জম্মু ও কাশ্মীরের ডোডা জেলার ভাদরওয়াহ এলাকা এখন নিরাপত্তার ঘন চাদরে ঢাকা (Doda tourist spots)। নতুন বছরের শুরুতে মৌসুমের প্রথম তুষারপাতের পর পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে, আর সেই কারণেই ভারতীয় সেনা এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ যৌথভাবে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে সমস্ত প্রধান ট্যুরিস্ট স্পটে। গুলডান্ডা, চাত্তারগাল্লা, পাদ্রি এই উঁচু এলাকাগুলো সাদা তুষারে ঢেকে গিয়ে পরিণত হয়েছে শীতের স্বপ্নের দেশে।

পর্যটকরা আসছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে, হোটেল-গেস্টহাউসগুলো ভর্তি, আর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নতুন আশায় বুক বাঁধছেন।২০২৬-এর প্রথম দিনেই নতুন বছরের উপহারের মতো তুষারপাত হয় ভাদরওয়াহের উঁচু অংশে। তারপর ঝকঝকে রোদ্দুরে গুলডান্ডা মেডো হয়ে ওঠে পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্য। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯৫৫৫ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই জায়গায় মাত্র দু’দিনে ২০০-র বেশি পর্যটকের গাড়ি এসেছে।

   

ভোটার তালিকায় নেই নাম! কমিশনের কাঠগড়ায় সাংসদ দেব?

গত বছরের পহেলগাঁও হামলার পর পর্যটন শিল্প যখন প্রায় ধুঁকছিল, তখন এই তুষারপাত এসেছে অক্সিজেনের মতো। হোটেল মালিক মনীশ কোটওয়াল বলছেন, “পহেলগাঁওয়ের ঘটনা আর অপারেশন সিঁদুরের পর পর্যটন যেন ভেন্টিলেটরে ছিল। কিন্তু ২০২৬-এর প্রথম দিনের তুষারপাত সব বরফ গলিয়ে দিয়েছে। গত দু’দিন ধরে সব হোটেল-হোমস্টে ভর্তি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক আসছেন।”পর্যটকদের মুখেও উচ্ছ্বাস।

কানপুরের ২১ বছরের আদিয়া বাজপেয়ী বলছেন, “বৈষ্ণোদেবী দর্শনের পর প্রথমবার ভাদরওয়াহে এসেছি। এখানকার সৌন্দর্য অবিশ্বাস্য। ভাইবটা এত ভালো যে চলে যেতে ইচ্ছে করছে না। নতুন বছরের আগের দিন এসে তুষারপাত দেখে ধন্য হয়ে গেছি।” রাজস্থানের চুরু থেকে আসা মনিকা বলছেন, “প্রথমবার তুষার দেখলাম, যেন পরীর দেশে এসেছি।” উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ থেকে আসা পর্যটকরা তুষারে খেলা করছেন, ছবি তুলছেন, আর স্থানীয়দের আতিথেয়তায় মুগ্ধ।

কিন্তু এই আনন্দের মধ্যেও নিরাপত্তার প্রশ্নটা সবচেয়ে বড়। ডোডার এসএসপি সন্দীপ মেহতা জানিয়েছেন, ভাদরওয়াহ সহ জেলার সমস্ত ট্যুরিস্ট স্পটে বিস্তারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেনা এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে চেকপোস্টগুলো শক্তিশালী করা হয়েছে, সংবেদনশীল জায়গায় অতিরিক্ত জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। নতুন বছরের উদযাপনের আগে থেকেই উঁচু এলাকায় টহলদারি বাড়ানো হয়।

ঘন জঙ্গল, প্রাকৃতিক গুহা, হিমাচল সীমান্ত লাগোয়া ভালেসা বেল্টে কড়া তাপমাত্রা আর তুষারের মধ্যেও সেনারা অবিরাম সার্চ অপারেশন চালাচ্ছেন। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, কিছু বিদেশি জঙ্গি এখনও সক্রিয়, তাদের নিশ্চিহ্ন করতে সেনা-পুলিশ একযোগে কাজ করছে।এক পর্যটক ধর্মেন্দ্র শর্মা বলছেন, “সব ক্রেডিট যায় ভারতীয় সেনার। এখানে নতুন বছরে আসার জন্য সবাইকে পরামর্শ দিচ্ছি।

ভারতীয় সেনা সবাইকে দেখভাল করছে।” তাঁর এই কথায় প্রতিফলিত হয় সাধারণ পর্যটকদের মনের ভরসা। সেনা-পুলিশের এই কড়া নিরাপত্তা না থাকলে হয়তো এত পর্যটকের সাহস হতো না। গ্রাম প্রতিরক্ষা দলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, সাইবার টিম ভিপিএনের অপব্যবহার নজরে রাখছে সব মিলিয়ে একটা নিরাপত্তার চাদর বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে পুরো এলাকায়।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন