কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ও দলীয় কোন্দল আরও প্রকাশ্যে৷ রাজ্যসভার সাংসদ ও মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি পুরোনো ছবি শেয়ার করে বিজেপি এবং আরএসএসের (RSS) সাংগঠনিক শক্তির প্রশংসা করতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন দিল্লিতে কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক কমিটি অর্থাৎ সিডব্লিউসি-র (CWC) বৈঠক চলছে। দিগ্বিজয় সিংয়ের এই পোস্টটিকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি একটি পরোক্ষ বার্তা হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দিগ্বিজয় সিংয়ের পোস্টে মোদীর ‘সাফল্যগাথা’
দিগ্বিজয় সিং ১৯৯০-এর দশকের একটি সাদা-কালো ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে তরুণ নরেন্দ্র মোদীকে দেখা যাচ্ছে বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা লালকৃষ্ণ আদবানির পায়ের কাছে মেঝেতে বসে থাকতে। এই ছবিটি ১৯৯৬ সালে গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শঙ্করসিং বাঘেলার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের বলে জানা গিয়েছে। দিগ্বিজয় সিং এই ছবিটিকে অত্যন্ত ‘প্রভাবশালী’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন যে, কীভাবে আরএসএসের একজন সাধারণ স্বয়ংসেবক বা বিজেপির একজন নিচুতলার কর্মী মেঝেতে বসে থেকে আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছেন, তা সংগঠনের শক্তিরই পরিচয় দেয়।
দলের হাইকমান্ডকে সরাসরি বার্তা
দিগ্বিজয় সিং তাঁর এই পোস্টে মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলিকে ট্যাগ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি সরাসরি কংগ্রেস হাইকমান্ডকে একটি কড়া বার্তা দিতে চেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। গত সপ্তাহেই তিনি কংগ্রেসের সাংগঠনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সরব হয়েছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে রাহুল গান্ধীকে কোনো বিষয়ে ‘বোঝানো বা রাজি করানো’ খুব একটা সহজ কাজ নয়। তিনি কংগ্রেসের বিকেন্দ্রীকরণ এবং আরও বাস্তবসম্মত কর্মপদ্ধতির দাবি তুলেছেন।
বিজেপির কটাক্ষ ও রাহুলের নীরবতা
বিজেপি এই সুযোগ হাতছাড়া করেনি। দলের মুখপাত্র সি আর কেশবন দিগ্বিজয় সিংয়ের এই পোস্টকে একটি ‘ট্রুথ বম্ব’ বা সত্যের বিস্ফোরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, রাহুল গান্ধী কি দিগ্বিজয় সিংয়ের এই বক্তব্যের জবাব দেওয়ার সাহস দেখাবেন? কেশবনের দাবি, এই পোস্টটি প্রমাণ করে যে কংগ্রেসের শীর্ষ পরিবার কীভাবে স্বৈরাতান্ত্রিক ঢঙে দল চালাচ্ছে, যেখানে যোগ্য কর্মীর চেয়ে বংশপরিচয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
দিগ্বিজয়ের সাফাই ও কংগ্রেসের অস্বস্তি
বিতর্ক দানা বাঁধতেই দিগ্বিজয় সিং পরে একটি সাফাই দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে তিনি শুধুমাত্র বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোর প্রশংসা করেছেন, কিন্তু আদর্শগতভাবে তিনি সবসময় বিজেপির বিরোধিতা করে যাবেন। তবে তাঁর এই পোস্ট কংগ্রেসের অন্দরে ফাটলকে আরও প্রকট করে তুলেছে। শশী থারুরের মতো অনেক নেতা আগে থেকেই মোদীর বিভিন্ন নীতির প্রশংসা করে দলের অস্বস্তি বাড়িয়েছেন, আর এবার দিগ্বিজয় সিংয়ের এই ‘সংগঠন প্রশংসা’ কংগ্রেসের অস্বস্তিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।


