
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি ঢাকা-করাচি ফ্লাইট চালু হতে (Dhaka Karachi)চলেছে ২৯ জানুয়ারি থেকে, ১৪ বছরেরও বেশি সময় পর। কিন্তু এই ফ্লাইটের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছে ভারতের হাতে কারণ সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত রুটটি ভারতের আকাশপথ দিয়ে যায়। ভারত যদি ওভারফ্লাইট অনুমতি না দেয়, তাহলে ৩ ঘণ্টার যাত্রা ৮ ঘণ্টায় পরিণত হবে, যা অর্থনৈতিকভাবে অলাভজনক এবং বাস্তবসম্মত নয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (বিমান) এই রুটে সপ্তাহে দু’দিন বৃহস্পতি ও শনিবার ফ্লাইট চালাবে। প্রথম ফ্লাইট বিজি-৩৪১ ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ৮টায় ছেড়ে করাচিতে রাত ১১টায় পৌঁছাবে। ২০১২ সালের পর এই প্রথম সরাসরি যোগাযোগ পুনরুদ্ধার হচ্ছে। পাকিস্তান সিভিল এভিয়েশন অথরিটি ইতিমধ্যে অনুমতি দিয়েছে, এবং ফ্লাইটগুলো ৩০ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ট্রায়াল ভিত্তিতে চলবে।কিন্তু সমস্যা হলো আকাশপথ।
ইন্ডিয়ান অয়েলে ৪৯৩টি পদে নিয়োগ, শীঘ্রই আবেদন করুন
ঢাকা থেকে করাচির আকাশপথের দূরত্ব প্রায় ২,৩৭০ কিলোমিটার। সবচেয়ে সোজা ও স্বল্প সময়ের রুট মধ্য ভারত দিয়ে যায়। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পারস্পরিক আকাশপথ নিষিদ্ধ থাকায় (২০১৯ সালের পর থেকে চলমান), পাকিস্তানি বিমান ভারতের উপর দিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশি বিমানের ক্ষেত্রে ভিন্ন। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৭৮ সালের এয়ার সার্ভিসেস অ্যাগ্রিমেন্ট রয়েছে, যা ওভারফ্লাইট অধিকার, নির্ধারিত রুট এবং অনুমতি স্থগিতের শর্তাবলী নিয়ন্ত্রণ করে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের (এমইএ) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার বলেছেন, “এই ধরনের বিষয়গুলো ১৯৭৮ সালের চুক্তি অনুযায়ী দেখা হবে।” এর অর্থ স্পষ্ট অনুমতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের হাতে। এখনও পর্যন্ত বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ভারতের আকাশপথ ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে, কিন্তু নিশ্চিত অনুমতি পাওয়া গেছে কি না তা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। কিছু সূত্র বলছে, বিমান ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পেয়েছে, কারণ এটাই সবচেয়ে লাভজনক রুট।
কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে উত্তেজনা এই অনুমতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।যদি ভারত অনুমতি না দেয়, তাহলে বিমানকে ভারতের চারপাশ ঘুরে যেতে হবে হয়তো মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া বা আরব সাগর দিয়ে। এতে সময় ৩ ঘণ্টা থেকে ৮ ঘণ্টায় বেড়ে যাবে, জ্বালানি খরচ বাড়বে, ভাড়া বেড়ে যাবে এবং যাত্রীদের জন্য অসুবিধা হবে। অতীতে এই কারণেই যাত্রীরা দুবাই বা দোহা হয়ে যেতেন, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।
এই ফ্লাইট চালু হওয়া বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের উষ্ণতার প্রতীক। ১৯৭১-এর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জটিল ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক ও মানুষে-মানুষে যোগাযোগ বাড়ছে। কিন্তু ভারতের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এখানে গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ার আকাশপথে ভারতের লিভারেজ অনস্বীকার্য। এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিচ্ছে যে, আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা অপরিহার্য।










