
দিল্লিতে (Delhi) বায়ুদূষণের পরিস্থিতির সামান্য উন্নতির পর GRAP-iv (গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের চতুর্থ ধাপ)-এর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (CPCB) এবং বায়ু মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলির রিপোর্ট অনুযায়ী, দিল্লির গড় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ‘অতি গুরুতর’ স্তর থেকে নেমে ‘খুব খারাপ’ পর্যায়ে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন GRAP-iv-এর কড়া নিয়মগুলি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উল্লেখ্য, GRAP-iv কার্যকর হলে দিল্লি ও এনসিআর অঞ্চলে একাধিক কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এর মধ্যে ছিল নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা, ভারী যানবাহনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, শিল্প কারখানার কার্যক্রমে কড়া নিয়ন্ত্রণ এবং স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার মতো সিদ্ধান্ত। এই বিধিনিষেধগুলি মূলত তখনই কার্যকর হয়, যখন AQI ৪৫০-এর উপরে পৌঁছে ‘অতি গুরুতর’ স্তরে চলে যায়।
সাম্প্রতিক কয়েক দিনে আবহাওয়ার অনুকূল পরিবর্তন, বাতাসের গতি বৃদ্ধি এবং হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনার কারণে দূষণের মাত্রা কিছুটা কমেছে। তার জেরেই বিশেষজ্ঞ কমিটি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে GRAP-iv প্রত্যাহারের সুপারিশ করে। প্রশাসন জানিয়েছে, যদিও এই ধাপের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে, তবুও GRAP-এর আগের ধাপগুলির কিছু নিয়ম এখনই সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া হচ্ছে না।
GRAP-iv প্রত্যাহারের ফলে দিল্লিতে ফের চালু হতে শুরু করেছে বহু নির্মাণকাজ। নির্মাণ ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, কারণ দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় তাঁদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। পাশাপাশি, কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠানও সীমিত আকারে তাদের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার অনুমতি পেয়েছে। তবে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ধুলো নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশবান্ধব নিয়ম মেনে চলতে হবে।
যান চলাচলের ক্ষেত্রেও কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। ভারী যানবাহনের ওপর যে কড়া নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা আংশিকভাবে শিথিল করা হয়েছে। তবে দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরনো ও বেশি ধোঁয়া ছড়ানো যানবাহনের বিরুদ্ধে নজরদারি চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবেশ দপ্তর যৌথভাবে এই বিষয়টি দেখভাল করবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, GRAP-iv প্রত্যাহার হলেও বায়ুদূষণের ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি কাটেনি। শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এখনও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বাইরে বেরোলে মাস্ক ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় যানবাহন ব্যবহার কমানো এবং ঘরের ভিতরে বায়ু পরিষ্কার রাখার মতো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।










