দিল্লি (Delhi) পুলিশ ক্রাইম ব্রাঞ্চ সম্প্রতি একটি বড়সড় ভেজাল খাদ্য ও নকল ব্র্যান্ডেড পণ্যের র্যাকেটের পর্দাফাঁস করেছে। এই অভিযানে পুলিশ চারজন মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং কোটি টাকারও বেশি মূল্যের নকল ঘি ও বিভিন্ন পরিচিত ব্র্যান্ডের ভেজাল গৃহস্থালি পণ্য উদ্ধার করেছে। পুলিশের মতে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই দিল্লি-এনসিআর এলাকায় সক্রিয় ছিল এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত চক্রটি বাজারে বহুল পরিচিত একাধিক ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে নকল পণ্য তৈরি ও বিক্রি করত। এর মধ্যে রয়েছে আমুল, পতঞ্জলি ও মধুসূদন ব্র্যান্ডের ঘি, জনপ্রিয় অ্যান্টাসিড এনো, মশা নিধনকারী অল আউট, ত্বক পরিচর্যার পণ্য ভিট (Veet) এবং টাটা সল্ট। এই নকল পণ্যগুলি আসল পণ্যের তুলনায় অনেক কম দামে বাজারে ছাড়া হতো, যার ফলে সাধারণ ক্রেতারা সহজেই প্রতারিত হচ্ছিলেন।
ক্রাইম ব্রাঞ্চ জানিয়েছে, গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তারা নির্দিষ্ট গোপন সূত্রে খবর পায় যে, উত্তর-পশ্চিম দিল্লির উত্তম নগর এলাকায় বিপুল পরিমাণ নকল ব্র্যান্ডেড পণ্যের একটি বড় চালান আসতে চলেছে। সেই খবরের ভিত্তিতে পুলিশ একটি বিশেষ দল গঠন করে এবং এলাকায় ফাঁদ পাতে। দুপুর প্রায় ২টা ১৫ মিনিট নাগাদ, যখন অভিযুক্তরা সেই চালান গ্রহণ করছিল, তখনই পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।
অভিযানের সময় পুলিশ বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও নকল পণ্য উদ্ধার করে। এর মধ্যে ছিল আমুল, পতঞ্জলি ও মধুসূদন ব্র্যান্ডের নামে বাজারজাত করার জন্য প্রস্তুত ১,১৩১ লিটার ভেজাল ঘি। এছাড়াও উদ্ধার করা হয় ৮,৬৪০টি এনোর স্যাশে, ১,২০০ ইউনিট অল আউট, ১,১৫২ ইউনিট ভিট এবং প্রায় ৩,০০০ কেজি টাটা সল্ট। শুধু তাই নয়, পুলিশের তল্লাশিতে আরও ২,০০০ কেজি টাটা সল্টের একটি অতিরিক্ত চালান, প্যাকিং মেশিন, নকল মোড়ক, জাল লেবেল এবং ভুয়ো ব্র্যান্ডিং সামগ্রীও পাওয়া যায়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা প্রথমে নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহার করে ঘি ও অন্যান্য পণ্য তৈরি করত। এরপর আসল ব্র্যান্ডের মতো দেখতে মোড়ক ও লেবেল লাগিয়ে সেগুলি বাজারে ছড়িয়ে দিত। পাইকারি বিক্রেতা ও ছোট দোকানদারদের মাধ্যমে এই নকল পণ্য বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে যেত। কম দামের লোভে অনেক ব্যবসায়ী ও ক্রেতা না জেনেই এই ভেজাল পণ্য কিনে নিতেন। ক্রাইম ব্রাঞ্চের এক আধিকারিক জানান, এই ধরনের ভেজাল খাদ্য ও নকল গৃহস্থালি পণ্য মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভেজাল ঘি ও লবণের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে ধৃত চার অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করা হয়েছে এবং পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশ মনে করছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে এবং তদন্তের পরিসর আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি, উদ্ধার করা নকল পণ্যগুলির নমুনা পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। দিল্লি পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানিয়েছে, খুব কম দামে পরিচিত ব্র্যান্ডের পণ্য কিনতে গিয়ে যেন কেউ প্রতারিত না হন। সন্দেহজনক পণ্য বা ভেজাল ব্যবসার তথ্য পেলে দ্রুত পুলিশের কাছে জানানোরও আহ্বান জানানো হয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে ভেজাল খাদ্য ও নকল পণ্যের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট হলো।
