দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) ক্রাইম ব্রাঞ্চ এক বড় ধরনের ভেজাল ওষুধের চক্র এবং অবৈধ উৎপাদন ইউনিট ভেঙে দিয়েছে। এই অভিযানে দুইজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে—গৌরব ভাগৎ এবং শ্রী রাম, যিনি বিশাল গুপ্ত নামেও পরিচিত। অভিযান পরিচালনার সময় বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ এবং তাদের উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল উদ্ধার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের ডেপুটি কমিশনার আদিত্য গৌতম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ভেজাল ওষুধের এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় ছিল। সাধারণ মানুষকে সহজলভ্য ওষুধ দেওয়ার নাম করে তারা বাজারে প্রতারণা করছিল। এ ধরনের ভেজাল ওষুধ কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং মানুষের স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ ওষুধ খেলে রোগ বৃদ্ধি পেতে পারে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে এবং কখনও কখনও জীবননাশের ঝুঁকিও থাকে।
অভিযান চলাকালে পুলিশের হাতে এসেছে কোটি টাকার ভেজাল ওষুধ এবং কাঁচামাল। উদ্ধৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের গুঁড়া, ক্যাপসুল, সিরাপ এবং ট্যাবলেট। এই কাঁচামাল ব্যবহার করে অভিযুক্তরা অবৈধভাবে ওষুধ তৈরি করছিল। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের সদস্যরা নিয়মিতভাবে রাজধানী সহ আশেপাশের শহরগুলোতে এই ভেজাল ওষুধ সরবরাহ করত।
গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র চালিয়ে আসছিল। গৌরব ভাগৎ ও শ্রী রামের (বিশাল গুপ্ত) বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশের দাবি, এই অভিযানের মাধ্যমে আরও অনেক গোপন তথ্য পাওয়া যাবে যা চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে সাহায্য করবে। তারা আরও বলছেন, গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তরা সরাসরি জনগণের স্বাস্থ্যের সঙ্গে ছেলেখেলা করছিল।
ভেজাল ওষুধ নির্মাণের এই ধরনের চক্র শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্যও বড় হুমকি। এই ঘটনায় দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধ বাজারে মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে। তাই পুলিশ এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ একযোগে কাজ করছে যাতে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে প্রতিরোধ করা যায়। ডেপুটি কমিশনার আদিত্য গৌতম জানিয়েছেন, “এই অভিযানে উদ্ধারকৃত ওষুধ ও কাঁচামালের বিশদ পরীক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়া অভিযুক্তদের কাছ থেকে আরও তথ্য আহরণ করা হবে। আমরা চাই, ভবিষ্যতে এ ধরনের ভেজাল ওষুধ বাজারে আসতে না পারে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ ওষুধ পৌঁছে দেওয়া।”
এই ঘটনায় সাধারণ মানুষেরও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। কেউ যদি সন্দেহভাজন ওষুধ কিনে, তা গ্রহণ না করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া, ওষুধ কেনার সময় সরকারি অনুমোদিত ফার্মেসি বা পরিচিত দোকান থেকেই কেনা উচিৎ। অজানা বা অবৈধ উৎস থেকে ওষুধ কেনা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।
