
নয়াদিল্লি: সাইবার অপরাধের (cyber fraud) বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল দিল্লি পুলিশ। ‘সাইহক অপারেশন’-এর অধীনে একযোগে অভিযান চালিয়ে আন্তঃরাজ্য সাইবার প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। অনলাইন বিনিয়োগ প্রতারণা, পার্ট-টাইম চাকরির ফাঁদ, ডিজিটাল অ্যারেস্টসহ একাধিক সাইবার অপরাধে ব্যবহৃত মিউল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সরবরাহকারী দুটি সংগঠিত গ্যাং ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানে মোট ৯ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন শাখা সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লি, গুরগাঁও, জয়পুর ও গাজিয়াবাদে একযোগে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (DCP) রাজা বান্থিয়া জানান, এই চক্রগুলি অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে কাজ করত এবং একাধিক স্তরের ব্যাঙ্কিং চ্যানেল ব্যবহার করে প্রতারণার টাকা লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করত।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ও এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। অভিযানের সময় ৮টি মোবাইল ফোন, ৮টি সিম কার্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, দেশজুড়ে বিভিন্ন সাইবার প্রতারণা মামলার অর্থ এই মিউল অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে ঘোরানো হত।
একটি ঘটনায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ২১ বছরের ছাত্র পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, পার্ট-টাইম চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে অল্প কিছু টাকা দিয়ে তার বিশ্বাস অর্জন করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ৯৩ হাজার টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয়। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন।
তদন্তে নেমে পুলিশ কল ডিটেইল রেকর্ড, IMEI নম্বর এবং আর্থিক লেনদেনের ট্রেইল বিশ্লেষণ করে রাজস্থানের তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, এই অভিযুক্তরা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে তার নেট ব্যাঙ্কিং তথ্য, সিম কার্ড এবং কর্পোরেট আইডি কমিশনের বিনিময়ে অন্যান্য প্রতারকদের কাছে বিক্রি করত।
অন্য একটি মামলায়, ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে দায়ের হওয়া একাধিক অভিযোগ বিশ্লেষণ করে পুলিশ লক্ষ্য করে, বিভিন্ন সাইবার প্রতারণার টাকা একই ধরনের মিউল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঘোরানো হচ্ছে। উত্তর দিল্লির একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টকে এই চক্রের মূল কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
পাঁচটিরও বেশি সাইবার প্রতারণা মামলার সঙ্গে যোগসূত্র পাওয়ার পর নতুন করে FIR দায়ের করা হয়। এই ঘটনায় আরও ৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা হ্যান্ডলার, কো-অর্ডিনেটর ও অ্যাকাউন্ট প্রোভাইডার হিসেবে কাজ করত। তারা ব্যক্তিগত ও কর্পোরেট মিউল অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করত, ATM ও চেকের মাধ্যমে টাকা তুলত এবং একাধিক অ্যাকাউন্টে টাকা ঘুরিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্রিপ্টোকারেন্সি বিশেষ করে USDT-তে রূপান্তর করত।
গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের নাম হিমাংশু শর্মা, চাত্রা অভিজিৎ লাম্বা, সাহিল যোশী (রাজস্থান), মান্নু, অজয়, পারভীন, পীযূষ (দিল্লি) এবং অনিকেত ও গণেশ রাঠি (গাজিয়াবাদ)। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।










