দেশজুড়ে যখন প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত, ঠিক (Delhi Metro)তখনই সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বড় ঘোষণা করল দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC)। আগামী ২৬ জানুয়ারি, সোমবার, অর্থাৎ ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে, দিল্লি মেট্রো ভোর ৩টা থেকেই পরিষেবা শুরু করবে তা-ও সব লাইনে।
ডিএমআরসির তরফে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে মূলত কার্তব্য পথ (Kartavya Path)-এ আয়োজিত প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ দেখতে আসা দর্শকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে। ভোর ৩টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর ট্রেন চলবে, যাতে যাত্রীরা কোনও ভিড় বা অসুবিধা ছাড়াই গন্তব্যে পৌঁছতে পারেন। সকাল ৬টার পর থেকে মেট্রো পরিষেবা চলবে স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী।
মুসলিম লিগের থেকেও বেশি সাম্প্রদায়িক কংগ্রেস: মোদী
ডিএমআরসির কর্পোরেট কমিউনিকেশন বিভাগের প্রিন্সিপাল এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জানিয়েছেন, “প্রজাতন্ত্র দিবসে বহু মানুষ ভোরের দিকেই কার্তব্য পথের উদ্দেশে রওনা দেন। সেই কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ ট্রেন পরিষেবার ব্যবস্থা।”
শুধু মেট্রো পরিষেবাই নয়, প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লি মেট্রোর সমস্ত স্টেশনে পার্কিং সুবিধাও সম্পূর্ণ চালু থাকবে। ফলে যাঁরা নিজেদের গাড়িতে এসে মেট্রো ধরতে চান, তাঁদের জন্যও থাকছে বাড়তি সুবিধা। যাত্রীদের আগেভাগে যাত্রাপথ পরিকল্পনা করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে শেষ মুহূর্তের ভোগান্তি এড়ানো যায়।
২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ এই দিনেই কার্যকর হয় ভারতের সংবিধান। ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারত পরিণত হয় এক সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে। সেই ঐতিহাসিক দিনটির স্মরণেই প্রতি বছর পালিত হয় প্রজাতন্ত্র দিবস।
এ বছর দেশ জুড়ে পালিত হবে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস, যা একটি জাতীয় ছুটির দিন। সরকারি দফতর , স্কুল, কলেজ থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা সর্বত্রই অনুষ্ঠিত হবে পতাকা উত্তোলন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দেশাত্মবোধক কর্মসূচি।
নিউ দিল্লির কার্তব্য পথে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী সামরিক ও সাংস্কৃতিক কুচকাওয়াজ। সেখানে অংশ নেবে স্থলবাহিনী, নৌবাহিনী, বায়ুসেনা এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী। বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তাদের নিজস্ব ট্যাবলো উপস্থাপন করবে, যেখানে ফুটে উঠবে দেশের বৈচিত্র্য ও সংস্কৃতি।
এবারের কুচকাওয়াজের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত ‘Battle Array’ ফরমেশন যেখানে সেনা ইউনিটগুলিকে দেখা যাবে বাস্তব অপারেশনাল ক্রমে, শুধুমাত্র স্থির প্রদর্শনী হিসেবে নয়। পাশাপাশি, নতুন ইউনিট যেমন ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়নও কুচকাওয়াজে অংশ নেবে।
এ বছরের প্রজাতন্ত্র দিবস আরও বিশেষ হয়ে উঠছে আন্তর্জাতিক স্তরেও। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা থাকবেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে। এই উপস্থিতি ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকেই ইঙ্গিত করছে। জানা গেছে, পরদিনই দুই পক্ষের মধ্যে Free Trade Agreement (FTA) সংক্রান্ত আলোচনা চূড়ান্ত হতে পারে।
