আগামী ছ’দিন তাপপ্রবাহে জ্বলবে রাজধানী, তাপমাত্রা ছুঁতে পারে ৪২ ডিগ্রি

ভারতের জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে আগামী ছয় দিন তাপপ্রবাহের (Delhi heatwave) সম্ভাবনা রয়েছে বলে শুক্রবার পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)। আবহাওয়া দপ্তরের ছয় দিনের পূর্বাভাস…

Delhi heatwave alert girl

ভারতের জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে আগামী ছয় দিন তাপপ্রবাহের (Delhi heatwave) সম্ভাবনা রয়েছে বলে শুক্রবার পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)। আবহাওয়া দপ্তরের ছয় দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করবে। এই তীব্র গরমে দিল্লিবাসীদের জন্য আগামী কয়েক দিন বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে।

শুক্রবার দিল্লিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪.৪ ডিগ্রি বেশি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আইএমডি জানিয়েছে, শহরের অন্যান্য পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোতেও উচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। রিজ এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯.৪ ডিগ্রি, আয়ানগরে ৩৮.১ ডিগ্রি, লোধি রোডে ৩৮ ডিগ্রি এবং পালামে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনভর আর্দ্রতার মাত্রা ৪৭ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করেছে।

   

শনিবারের জন্য আবহাওয়া দপ্তর শক্তিশালী পৃষ্ঠ-বায়ু এবং কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। আইএমডি জানিয়েছে, আগামী ছয় দিনে তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকবে এবং ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লিবাসীদের গরম থেকে সুরক্ষার জন্য সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Advertisements

শুক্রবার দিল্লির বায়ুর গুণমান সূচক (একিউআই) ‘দরিদ্র’ (পুওর) শ্রেণিতে ছিল। বিকেল ৪টায় কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, একিউআই-এর মান ছিল ২১৯। তবে, দিল্লির জন্য বায়ু গুণমান প্রারম্ভিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে যে, আগামী দুই দিনে বায়ুর গুণমান ‘মাঝারি’ (মডারেট) শ্রেণিতে উন্নতি হতে পারে।

একিউআই-এর স্কেলে, ০ থেকে ৫০ হল ‘ভালো’, ৫১ থেকে ১০০ ‘সন্তোষজনক’, ১০১ থেকে ২০০ ‘মাঝারি’, ২০১ থেকে ৩০০ ‘দরিদ্র’, ৩০১ থেকে ৪০০ ‘খুব দরিদ্র’ এবং ৪০১ থেকে ৫০০ ‘গুরুতর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাপপ্রবাহের সঙ্গে বায়ু দূষণের সমস্যা দিল্লির বাসিন্দাদের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

আইএমডি-র তথ্য অনুযায়ী, যখন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪.৫ ডিগ্রি বা তার বেশি হয় এবং ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ায়, তখন তাকে তাপপ্রবাহ বলা হয়। দিল্লিতে শুক্রবার থেকেই এই পরিস্থিতি শুরু হয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে তা আরও তীব্র হবে। এই গরমে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন এমন মানুষদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। হিটস্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন এবং ক্লান্তির মতো সমস্যা এড়াতে পর্যাপ্ত জলপান এবং ছায়ায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

দিল্লির জলবায়ু সাধারণত এপ্রিল মাসে উষ্ণ হলেও, এবার তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি। গত বছর এই সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রির কাছাকাছি ছিল। আইএমডি-র বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম ভারতে শুষ্ক এবং গরম বাতাসের প্রভাব এই তাপপ্রবাহের জন্য দায়ী। এছাড়া, বৃষ্টির অভাব এবং ক্রমবর্ধমান দূষণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

তাপপ্রবাহের কারণে দিল্লির বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব পড়তে পারে। দিনের বেলা বাইরে কাজ করা শ্রমিক, রিকশাচালক এবং ফেরিওয়ালাদের জন্য এই গরম বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। স্কুলগুলোতে গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু না হওয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে অতিরিক্ত গরমে বাইরে না বেরোনো এবং হালকা পোশাক পরা।

এছাড়া, বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দিল্লির পাওয়ার গ্রিডের ওপর চাপ বাড়তে পারে। গত বছর তাপপ্রবাহের সময় কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা গিয়েছিল। এবারও এই সমস্যা এড়াতে সরকারি সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

তাপপ্রবাহের পাশাপাশি দিল্লির বায়ু গুণমান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। শুক্রবার ‘দরিদ্র’ স্তরে থাকা একিউআই আগামী দুই দিনে ‘মাঝারি’ স্তরে আসতে পারে। তবে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে ধুলো এবং দূষণকারী কণার মাত্রা বাড়তে পারে। পরিবেশবিদরা বলছেন, শহরের গাছপালা কমে যাওয়া এবং কংক্রিটের বৃদ্ধি তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়াচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যা সমাধানে সবুজায়ন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়া প্রয়োজন।

পশ্চিমবঙ্গে এখনও তাপপ্রবাহের কোনো পূর্বাভাস না থাকলেও, এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। কলকাতায় শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি ছিল। আইএমডি জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি ছুঁতে পারে। দিল্লির তাপপ্রবাহ বাংলার আবহাওয়ার ওপর সরাসরি প্রভাব না ফেললেও, এটি গ্রীষ্মের তীব্রতার একটি ইঙ্গিত দেয়।

দিল্লি সরকার তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় জনসাধারণের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। জল বিতরণ কেন্দ্র স্থাপন, হাসপাতালে তাপ-সম্পর্কিত রোগীদের জন্য প্রস্তুতি এবং সচেতনতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বা বৃষ্টির সম্ভাবনা কম, ফলে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।

দিল্লিতে আগামী ছয় দিনের তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস বাসিন্দাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা স্বাস্থ্য, জীবনযাত্রা এবং পরিবেশের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সতর্কতা এবং প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। আবহাওয়ার পরিবর্তন কীভাবে দিল্লির জনজীবনকে প্রভাবিত করে, তা আগামী দিনে স্পষ্ট হবে।