নয়াদিল্লি: দিল্লির রেড ফোর্টে সাম্প্রতিক আত্মঘাতী বিস্ফোরণের (Delhi blast)ঘটনায় জড়িত কয়েকজন ডাক্তারের নাম উঠে এসেছিল। যা দেশের নিরাপত্তা চক্রে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঘটে যাওয়া এই বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছিল এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাঁরা একটি ‘হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল’-এর অংশ ছিলেন।
তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো একটি চাঞ্চল্যকর দাবি যে একজন মুসলিম ডাক্তার এই বিস্ফোরণে সাহায্য করেছিল প্রায় ৫,০০০ গর্ভবতী মহিলার ভ্রূণ হত্যা করেছেন। তবে এই ঘটনা এখনও তদন্ত সাপেক্ষ। কর্তৃপক্ষ এমন দাবিকে খারিজ করে বলেছে, এটি সমাজে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা।ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বিস্ফোরণের মূল সন্দেহভাজন ডা. উমর উল নবী নামে একজন চিকিত্সক ছিলেন, যিনি বিস্ফোরণে নিজেও মারা যান।
হোয়াটসঅ্যাপ থেকে আধার কার্ড কীভাবে ডাউনলোড করবেন
তিনি একটি মেডিকেল কলেজে কর্মরত ছিলেন এবং তদন্তে উঠে এসেছে যে, তিনি একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের অংশ ছিলেন। এনআইএ-র তদন্তে আরও চারজন ডাক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডা. শাহীন সাঈদ, ডা. অ্যাডিল এবং ডা. মুজাম্মিল।
এঁরা উত্তরপ্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর এবং অন্যান্য রাজ্য থেকে গ্রেফতার হয়েছেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই ডাক্তাররা বিস্ফোরক সামগ্রী সরবরাহ, কোডওয়ার্ড ব্যবহার (যেমন ‘মেডিসিন’ বলে বিস্ফোরককে উল্লেখ) এবং যোগাযোগের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে সাহায্য করেছেন।
ডা. শাহীন সাঈদকে ‘ম্যাডাম সার্জন’ বলে ডাকা হতো, এবং তিনি মুসলিম মেয়েদের র্যাডিকালাইজ করার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায়, বিশেষ করে এক্স (পূর্বতন টুইটার) প্ল্যাটফর্মে, একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে যাতে দাবি করা হয়েছে যে এই ডাক্তাররা শুধু সন্ত্রাসে জড়িত নন, বরং হাজার হাজার ভ্রূণ হত্যার সঙ্গে যুক্ত।
পোস্টটিতে বলা হয়েছে, “দিল্লি বিস্ফোরণে সাহায্যকারী মুসলিম ডাক্তার প্রায় ৫,০০০ গর্ভবতী মহিলার সন্তানকে গর্ভেই হত্যা করেছেন।” এতে আরও বলা হয়েছে যে, একাধিক এমন ডাক্তার এখনও অনুপস্থিত এবং কর্তৃপক্ষ তাঁদের খোঁজ করছে। পোস্টটি ‘হোয়াইট-কলার জিহাদ নেটওয়ার্ক’-এর গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং মুসলিম ফ্যামিলি ডাক্তার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
তবে এই দাবির বিরুদ্ধে এখনও তদন্ত চলছে। এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং অন্যান্য মিডিয়ায় প্রকাশিত রিপোর্টে শুধু সন্ত্রাসবাদী মডিউলে জড়িততার কথা উল্লেখ আছে, ভ্রূণ হত্যার কোনো অভিযোগ নেই।এই মিথ্যা প্রচার সমাজে ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সাইবার সেল এমন পোস্টগুলো নজরদারি করছে, কারণ এটি ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে।
এর আগেও, সন্ত্রাসবাদী ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ধর্মকে সামনে তুলে সমগ্র সম্প্রদায়কে দোষারোপ করার প্রবণতা দেখা গেছে, যা ভুল। উদাহরণস্বরূপ, এনআইএ কয়েকজন ডাক্তারকে ছেড়ে দিয়েছে, যাঁরা ভুলভাবে গ্রেফতার হয়েছিলেন। এতে দেখা যায় যে, তদন্ত চলছে এবং সবাইকে অপরাধী বলে চিহ্নিত করা যায় না।
