পুলিশ হেফাজত শেষে পাতিয়ালা আদালতে দিল্লি বিস্ফোরণের অভিযুক্তরা

delhi-blast-accused-produced-patiala-house-court

নয়াদিল্লি, ১২ ডিসেম্বর: লাল কেল্লার ছায়ায় ১০ নভেম্বরের সেই ভয়াবহ (Delhi blast accused)বিস্ফোরণের স্মৃতি এখনও তাজা। ১৫ জন নিরীহ মানুষের প্রাণহানি, অসংখ্য আহত এই রক্তাক্ত ঘটনা যেন দেশের নিরাপত্তার ক্ষতে লাগিয়েছে গভীর ক্ষত। আজ, জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) সেই মামলার চার মূল অভিযুক্তকে পাতিয়ালা হাউস কোর্টে হাজির করেছে।

তাদের হেফাজতকাল শেষ হওয়ার পর এই হাজিরা যেন তদন্তের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। অভিযুক্তরা হলেন ড. মুজাম্মিল শাকিল গনাই, ড. শাহিন সাইদ, মুফতি ইরফান আহমদ ওয়াগে এবং আদিল আহমদ রাদার। এরা সবাই জম্মু ও কাশ্মীরের স্থানীয়, কিন্তু তাদের শিক্ষিত পরিচয় যেন আতঙ্কের নতুন মুখোশ উন্মোচন করেছে।এই চারজনকে এনআইএ ২০ নভেম্বর শ্রীনগরে গ্রেফতার করে, পাতিয়ালা হাউস কোর্টের প্রোডাকশন ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে।

   

মেসির খোঁজে বাগানের এই দুই বিদেশি, প্রাক্তন ছাত্রকে নিয়ে চুপ গুরু লোবেরা

প্রথমে কোর্ট তাদের ১০ দিনের এনআইএ হেফাজতে পাঠায়, যা ৮ ডিসেম্বর বাড়ানো হয় আরও চার দিনের জন্য। আজ হেফাজতকাল শেষ হওয়ায় কোর্টে হাজির করা হয়েছে। বিশেষ এনআইএ জজ অনুরাধা ভদওরিয়া বন্ধ কক্ষে শুনানি করে সিদ্ধান্ত নেবেন। এনআইএ-র দাবি, এই অভিযুক্তরা বিস্ফোরণের পরিকল্পনা, লজিস্টিকস এবং স্থানীয় সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

বিস্ফোরণকারী উমর-উন-নাবির গাড়িটি রেজিস্টার্ড ছিল আমির রশিদ আলির নামে, যাকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। জাসির বিলাল ওয়ানি, যিনি টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়েছিলেন, তাও হাতে পাকড়াউদ্ধ। এছাড়া ফরিদাবাদের সোয়াবকে গাড়ি বোম্বার আশ্রয়দাতা হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। মোট সাতজন এখন হেফাজতে।

এই অভিযুক্তদের পরিচয় যেন আতঙ্কের নতুন রূপ দেখাচ্ছে। ড. মুজাম্মিল শাকিল গনাই পুলওয়ামার একজন ডাক্তার, যিনি শান্ত স্বভাবের বলে পরিচিত ছিলেন। ড. আদিল আহমদ রাদার অনন্তনাগের নেটিভ, কিন্তু সহারনপুরে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছিলেন। লক্ষ্ণৌর ড. শাহিন সাইদকে ‘ম্যাডাম সার্জন’ বলে ডাকা হত।

আল-ফালাহ হাসপাতালে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। মুফতি ইরফান আহমদ ওয়াগে শোপিয়ানের একজন ধর্মীয় নেতা, যাঁর বক্তব্যে র্যাডিক্যালিজমের ছায়া ছিল। এনআইএ-র তদন্তে দেখা গেছে, এরা একটা টেরর মডিউলের অংশ, যা সৌদি আরব, মালদ্বীপ এবং তুরস্কের মতো দেশের সঙ্গে যুক্ত।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন