নয়াদিল্লি: গ্রীষ্মের ভরা পর্যটন মরসুমের ঠিক আগেই বড়সড় ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হল দেশের ব্যস্ততম বিমানবন্দর দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (IGI Airport Runway Repair)। পরিকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের কাজের জন্য ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে অন্তত চার মাসের জন্য বন্ধ রাখা হতে পারে বিমানবন্দরের তৃতীয় রানওয়ে 11R/29L। পরিকল্পনা অনুযায়ী এই কাজ চলবে জুন মাসের শেষ পর্যন্ত।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই রানওয়ের দুই প্রান্তে ইন্সট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম বা ILS বদলানো হবে। পাশাপাশি রানওয়ের সারফেস নতুন করে তৈরি করা হবে, একটি নতুন র্যাপিড এক্সিট ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণ করা হবে এবং রানওয়ে সেফটি এরিয়ার ড্রেনেজ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের কাজও চলবে। লক্ষ্য রাখা হয়েছে বর্ষা শুরুর আগেই সমস্ত কাজ শেষ করার।
তবে এই সময়সীমা নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিমান পরিবহণ শিল্পের একাংশ। ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত সময়কাল দিল্লির কুয়াশার শেষ পর্যায় এবং একই সঙ্গে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের ব্যস্ততম সময়। এই সময় যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। ফলে একটি রানওয়ে বন্ধ থাকলে বিমান চলাচলে চাপ পড়বে এবং বিলম্বের আশঙ্কাও বাড়বে।
এক আধিকারিক জানিয়েছেন, রানওয়ে বন্ধ থাকার সময় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১,৫১৫টি বিমান ওঠানামা সামলানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে চারটি রানওয়ে পুরোপুরি চালু থাকলে দিল্লি বিমানবন্দরে দৈনিক প্রায় ১,৫৫০টি ফ্লাইট চলাচল করে। অর্থাৎ সামান্য চাপ বাড়লেও বড় কোনও কাটছাঁট করা হবে না বলেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
রানওয়ে বন্ধ থাকাকালীন বাকি তিনটি রানওয়েকে বিশেষভাবে পুনর্বিন্যাস করা হবে। একটি রানওয়ে মিক্সড মোডে চালানো হবে যেখানে উড্ডয়ন ও অবতরণ দুটোই হবে। একটি রানওয়ে শুধুমাত্র ডিপার্চারের জন্য এবং অন্যটি শুধুমাত্র অ্যারাইভালের জন্য বরাদ্দ থাকবে। কর্তৃপক্ষের দাবি, সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় ৩৮টি বিমান অবতরণ করানো সম্ভব হবে, যা স্বাভাবিক সময়ের মতোই বজায় রাখা হবে।


