
সোমবার সকালে ঘন ধোঁয়াশা ও বিষাক্ত কুয়াশার চাদরে ঢেকে গিয়েছে দিল্লি। ভয়াবহ বায়ুদূষণের জেরে রাজধানীর ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (আইজিআই) বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় যাত্রীদের সতর্ক করে একাধিক ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি জারি করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (সিপিসিবি)-র ‘সামীর’ অ্যাপ অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৭টা ৫ মিনিটে দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ছিল ৪৫৪—যা ‘সিভিয়ার’ বা ভয়াবহ স্তরের মধ্যে পড়ে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, রবিবার এই সূচক ছিল ৪৬১, যা ডিসেম্বর মাসে দিল্লির দ্বিতীয় সর্বনিম্ন বায়ুগুণমান হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
বিমান পরিষেবা ব্যাহত
এই পরিস্থিতিতে সোমবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে যাত্রীদের সতর্ক করে জানায়, ঘন কুয়াশার কারণে বিমান পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া বার্তায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, “ঘন কুয়াশার জেরে উড়ান পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। যাত্রীদের অসুবিধা কমাতে আমরা সমস্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করছি। সর্বশেষ ফ্লাইট আপডেটের জন্য যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।”
একই সঙ্গে দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগো-ও আলাদা করে ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি জারি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, দিল্লির আকাশে কম দৃশ্যমানতা ও কুয়াশার প্রভাব পড়তে পারে উড়ান সময়সূচিতে। যাত্রীদের ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত ফ্লাইট স্ট্যাটাস দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে তারা। পাশাপাশি, কুয়াশার কারণে রাস্তায় যান চলাচল ধীরগতির হতে পারে বলে বিমানবন্দরে পৌঁছতে অতিরিক্ত সময় হাতে রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সতর্ক করেছে এয়ার ইন্ডিয়াও Delhi Air Pollution Flight Disruptions
এয়ার ইন্ডিয়া-ও একই সুরে যাত্রীদের সতর্ক করেছে। এক্স-এ প্রকাশিত বার্তায় সংস্থাটি জানিয়েছে, দিল্লি এবং উত্তর ভারতের একাধিক অংশে ঘন কুয়াশার কারণে বিমান পরিষেবা প্রভাবিত হচ্ছে। বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে তারা।
এ দিকে, রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে দূষিত বাতাসের ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে। সিপিসিবি-র তথ্য অনুযায়ী, অক্ষরধাম এলাকায় AQI ছিল ৪৯৩। বরাপুল্লা ফ্লাইওভারে এই সূচক দাঁড়িয়েছে ৪৩৩ এবং বারাখাম্বা রোড এলাকায় AQI ছিল ৪৭৪—প্রতিটি ক্ষেত্রেই দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম।
AQI-র মান
উল্লেখ্য, AQI শূন্য থেকে ৫০ হলে ‘ভাল’, ৫১-১০০ ‘সন্তোষজনক’, ১০১-২০০ ‘মধ্যম’, ২০১-৩০০ ‘খারাপ’, ৩০১-৪০০ ‘অত্যন্ত খারাপ’ এবং ৪০১-৫০০ হলে তা ‘ভয়াবহ’ হিসেবে ধরা হয়।
দূষণের এই চরম পরিস্থিতিতে শনিবার থেকেই গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান (GRAP)-এর চতুর্থ ধাপ কার্যকর করেছে কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (CAQM)। এটি বায়ুদূষণ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ কড়া পদক্ষেপ। এই ধাপে দিল্লি-এনসিআর জুড়ে সমস্ত নির্মাণ ও ভাঙার কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, দিল্লি সরকার সরকারি ও বেসরকারি অফিসের ৫০ শতাংশ কর্মীকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর নির্দেশ দিয়েছে। স্কুলগুলিতেও ক্লাস ইলেভেন পর্যন্ত (দশম শ্রেণি বাদে) পড়াশোনা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হাইব্রিড পদ্ধতিতে—অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে।
বায়ুদূষণের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দিল্লির জনজীবন কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে দিকে তাকিয়ে রাজধানী।










