প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সাম্প্রতিক সময়ে সাহিবজাদাদের বীরত্ব ও সাহসকে স্মরণ করে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, সাহিবজাদারা ভারতের অদম্য সাহস ও বলিকতার প্রতীক। যে সাহসিকতার সঙ্গে তাঁরা মুঘল সাম্রাজ্যের অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন, তা শুধু ইতিহাসে নয়, বর্তমান প্রজন্মের জন্যও এক বিশাল প্রেরণার উৎস। মোদীর কথায়, সাহিবজাদারা একশিলা স্থাপত্যের মতো দৃঢ়ভাবে দাড়িয়েছিলেন এবং ধর্মীয় উগ্রতা ও সন্ত্রাসের ভিত্তিকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন।
মোদি আরও বলেন, “যখনই এই দিন, অর্থাৎ ২৬ ডিসেম্বর আসে, তখন আমি এক ধরনের সন্তুষ্টি অনুভব করি যে, আমাদের সরকার বীর বাল দিবস উদযাপন শুরু করেছে, সাহিবজাদাদের বীরত্ব থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে।” তিনি এই দিনে দেশের সকলকে সাহিবজাদাদের ত্যাগ ও বীরত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আহ্বান জানান।
সাহিবজাদারা ছিলেন গুৰু তুখরত সিংহের সন্তান। মুঘল সাম্রাজ্যের অত্যাচারের সময় তাদের বয়স খুবই কম ছিল, কিন্তু সাহস ও ত্যাগের ক্ষেত্রে তারা যে কোনো বয়স্ক সেনানীর চেয়ে কম ছিলেন না। তাদের দৃঢ় মনোবল, ন্যায়বিচারের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস ইতিহাসের পাতা ভরিয়ে দিয়েছে। মোদী তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই সাহসিকতা ও দৃঢ়তার কারণে সাহিবজাদারা দেশের জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণা হিসেবে রয়ে গেছেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বীর বাল দিবস শুধু সাহিবজাদাদের স্মরণে উদযাপিত হয় না, এটি নতুন প্রজন্মকে নৈতিক ও সাহসিক শিক্ষার দিকেও পরিচালিত করে। তিনি বলেন, সাহিবজাদাদের জীবন আমাদের শেখায়, যে কোন পরিস্থিতিতেই সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো উচিত। এই বীরত্ব আমাদের দেশের যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করে নিজেদের জীবনে সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।
মোদি বলেন, ইতিহাসের এই ঘটনা শুধু অতীতের নয়, এটি আমাদের জন্য এক শিক্ষা যে ধর্মীয় উগ্রতা ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সাহিবজাদাদের ত্যাগ দেখায়, যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতেও সাহস, অধ্যবসায় এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতি মানুষকে বিজয়ী করতে পারে। এই ইতিহাস আমাদের শেখায় যে, যে কোন সংকট বা বৈষম্যের সামনে দাঁড়ালে ভয় পাবার নয়, বরং সাহসীভাবে তার মোকাবিলা করতে হবে।
বীর বাল দিবস উদযাপনের মাধ্যমে সরকার দেশের প্রতিটি শহর, গ্রাম এবং স্কুলে সাহিবজাদাদের বীরত্বকে তুলে ধরতে চায়। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এই বীরত্বের গল্পকে প্রতিটি শিশু ও যুবকের কাছে পৌঁছে দেওয়া, যাতে তারা সাহস, ন্যায় এবং সততার মূল্য শিখতে পারে।” এই দিবসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শিক্ষামূলক এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যাতে সমাজের সবাই এই বীরত্বের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে।
সাহিবজাদাদের ইতিহাস শুধু একটি কাহিনী নয়, এটি ভারতের শিরোধারাকে দৃঢ় করার এক প্রতীক। মোদীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, এই বীরত্ব ও সাহসের গল্প আমাদের দেশের যুবসমাজকে নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষার ক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বীর বাল দিবস উদযাপন প্রতিটি মানুষের মধ্যে সাহস, ন্যায়বিচার এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে জাগ্রত করবে।
