‘ভাই আতঙ্কে, সরকার নীরব’—কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে সরব দেবদূত

কাশ্মীর – এক স্বপ্নের নাম। বরফঢাকা পাহাড়, চিরসবুজ উপত্যকা, আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোড়া এক ভূস্বর্গ। বছরভর অসংখ্য পর্যটক এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আশায় পাড়ি দেন উপত্যকায়…

India-Pakistan Tensions Escalate: Mock Drills Across States, Cross-Border Firing at LoC, UNSC Monitoring Situation

কাশ্মীর – এক স্বপ্নের নাম। বরফঢাকা পাহাড়, চিরসবুজ উপত্যকা, আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোড়া এক ভূস্বর্গ। বছরভর অসংখ্য পর্যটক এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আশায় পাড়ি দেন উপত্যকায় (Pahalgam Terror Attack) । তবে এবারের কাশ্মীর (Pahalgam Terror Attack) সফর হয়ে উঠেছে বহু মানুষের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো। হঠাৎ করে পহেলগাঁওয়ে হওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন নিরীহ মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কের বাতাবরণ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা উপত্যকায় (Pahalgam Terror Attack) । এমন পরিস্থিতিতে কাশ্মীরে (Pahalgam Terror Attack)  আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক, তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন অভিনেতা ও বাম নেতা দেবদূত ঘোষের ভাই।

এই ঘটনার জেরে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন দেবদূত। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি জানিয়েছেন, “আমার ভাই ও তাঁর বন্ধুরা বেড়াতে গিয়েছিলেন কাশ্মীরে (Pahalgam Terror Attack) । এখন ওঁরা খুব আতঙ্কে রয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে একসঙ্গে ফেরারও সুযোগ নেই। কেউ টিকিট পাচ্ছে, কেউ পাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ভাগ ভাগ করে ফেরার চেষ্টা করছে।” অভিনেতার অভিযোগ, “টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া। সরাসরি কাশ্মীর থেকে কলকাতা ফেরার জন্য এখন টিকিটের দাম প্রায় ৩৩ হাজার টাকা! দিল্লি হয়ে আসার পথেও একই অবস্থা। সাধারণ মানুষ এত টাকা দিয়ে কীভাবে ফিরবেন?”

   

এই অবস্থায় কেন্দ্রের ভূমিকাতেই প্রশ্ন তুলেছেন দেবদূত ঘোষ। তিনি বলেন, “সরকার কি শুধুই দর্শক হয়ে বসে থাকবে? এত বড় একটি ঘটনার পরও কি পর্যটকদের নিরাপদে ফেরানোর জন্য কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রক কোনও পদক্ষেপ নিয়েছে?” তিনি আরও বলেন, “এত কড়া নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে জঙ্গিরা (Pahalgam Terror Attack)  এমন হামলা চালাতে পারল? কাশ্মীরের (Pahalgam Terror Attack) মতো জায়গায় যেখানে প্রতি কিছু দূরত্বেই সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকে, সেখানে ২৬ জন নিরীহ মানুষের প্রাণ চলে যাওয়া সত্যিই দুঃখজনক ও লজ্জার।”

এই ঘটনার পর থেকেই উপত্যকার (Pahalgam Terror Attack) আবহাওয়া থমথমে। স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে পর্যটক – সকলেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই যারা ৩-৪ দিন পর ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁরাও এখন তড়িঘড়ি টিকিট কেটে ফিরতে চাইছেন। তবে টিকিটের হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিমান সংস্থাগুলিও ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মধ্যবিত্ত পর্যটকরা। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে রাস্তায় বসে প্রতিবাদও জানিয়েছেন বলে খবর।

Advertisements

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে কেন্দ্রীয় সরকারের (Pahalgam Terror Attack) প্রস্তুতি ও দায়িত্ব নিয়ে। কীভাবে পর্যটকদের দ্রুত ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ এখনো চোখে পড়েনি। দেবদূত ঘোষের মতো বহু মানুষের দাবী, কেন্দ্রীয় সরকারকে অবিলম্বে বিশেষ বিমানের ব্যবস্থা করে আটকে থাকা পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা উচিত। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করারও দাবি উঠেছে।

কাশ্মীর (Pahalgam Terror Attack) আজ শুধুই রূপকথার রাজ্য নয়, বরং বাস্তবের এক কঠিন যুদ্ধক্ষেত্র। সেখানে পর্যটকদের জীবনের নিরাপত্তা এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন। দেবদূতের ভাইয়ের মতো বহু মানুষ ঘরে ফিরতে চাইলেও, পরিস্থিতির কারণে আটকে রয়েছেন। এ মুহূর্তে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং সুরক্ষিতভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, নৈতিক কর্তব্যও।