২০ বছরে ১২ গুণ বৃদ্ধি! ভারতে বিপন্ন শৈশব, বিচারের অপেক্ষায় ৫.৯ লক্ষ মামলা

নয়াদিল্লি: সভ্য সমাজের জন্য এর চেয়ে বড় লজ্জার পরিসংখ্যান আর কিছু হতে পারে না। ভারতে গত দুই দশকে শিশুদের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধের সংখ্যা ১২ গুণ…

crimes against children in India

নয়াদিল্লি: সভ্য সমাজের জন্য এর চেয়ে বড় লজ্জার পরিসংখ্যান আর কিছু হতে পারে না। ভারতে গত দুই দশকে শিশুদের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধের সংখ্যা ১২ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৪ সালে যেখানে দেশে শিশু নিগ্রহের সংখ্যা ছিল বছরে ১৪ হাজার ৪২৩, ২০২৩ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৭৭ হাজারে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-র তথ্য বিশ্লেষণ করে সামনে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র, দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০টি শিশু অপরাধের মামলা নথিভুক্ত হচ্ছে।

Advertisements

১. লাফিয়ে বাড়ছে গ্রাফ, শীর্ষে মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশ

তথ্য বলছে, ২০০১ সাল থেকে এনসিআরবি শিশুদের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধের তথ্য আলাদাভাবে নথিভুক্ত করা শুরু করে। গত ১০ বছরের (২০১৪-২০২৩) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের মোট শিশু অপরাধের অর্ধেকেরও বেশি ঘটেছে মাত্র ৬টি রাজ্যে।

   

মধ্যপ্রদেশ: ১.৭৭ লক্ষ মামলা নিয়ে তালিকার শীর্ষে।

উত্তরপ্রদেশ: ১.৭০ লক্ষ মামলা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে।

মহারাষ্ট্র: ১.৬৬ লক্ষ মামলা নিয়ে তৃতীয় স্থানে।

অন্যান্য: এই তালিকার পরবর্তী ধাপে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ (৬৭,২৮৭), রাজস্থান এবং বিহার।

২. অসম ও বিহারের উদ্বেগজনক প্রবণতা crimes against children in India

জাতীয় স্তরে গত ১০ বছরে অপরাধ যেখানে দ্বিগুণ হয়েছে, সেখানে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য অসমে এই হার বেড়েছে সাত গুণেরও বেশি। বিহারেও শিশু নিগ্রহের ঘটনা বেড়েছে প্রায় ৫ গুণ। ওড়িশা ও তামিলনাড়ুতেও এই বৃদ্ধির হার উদ্বেগজনক।

৩. বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা: সুবিচার কি কেবলই স্বপ্ন?

পরিসংখ্যান বলছে, অপরাধ বাড়লেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে না বিচারের গতি। এনসিআরবি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শেষ পর্যন্ত শিশুদের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধের প্রায় ৫ লক্ষ ৯০ হাজার মামলা আদালতে ঝুলে রয়েছে। অর্থাৎ, মামলার নিষ্পত্তির হার এতটাই কম যে পেন্ডেন্সি রেট বা বিচারাধীন থাকার হার বর্তমানে ৯০ শতাংশ।

বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদার আরেকটি বড় প্রমাণ হলো দণ্ডাদানের হার (Conviction Rate)। ২০১৯ সালে যেখানে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার ছিল ৩৫ শতাংশ, ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৯ শতাংশে। অর্থাৎ ১০০ জন অভিযুক্তের মধ্যে ৭১ জনই প্রমাণের অভাব বা আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

৪. তদন্তের সীমাবদ্ধতা

২০২৩ সালে পুলিশের হাতে মোট ২.৫৭ লক্ষ মামলা তদন্তের জন্য ছিল। এর মধ্যে মাত্র ১.১২ লক্ষ মামলায় চার্জশিট পেশ করা সম্ভব হয়েছে। ১০ হাজারের বেশি ক্ষেত্রে অপরাধ সত্য হওয়া সত্ত্বেও স্রেফ উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে তদন্ত এগোয়নি।

৫. সম্পাদকীয় পর্যবেক্ষণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধের সংখ্যা বাড়ার পেছনে জনসচেতনতা এবং বেশি সংখ্যায় এফআইআর দায়ের হওয়া একটি কারণ হতে পারে। কিন্তু বিচারের এই মন্থর গতি এবং নিচু দণ্ডাদানের হার অপরাধীদের মনে ভীতি দূর করছে। কেবল নতুন আইন প্রণয়ন নয়, বরং শিশু সুরক্ষা আইন (POCSO) এবং অন্যান্য ধারার দ্রুত প্রয়োগই পারে ভারতের শৈশবকে সুরক্ষিত করতে।

Advertisements