
গালওয়ান সংঘর্ষের পর দীর্ঘ ছয় বছর। সেই উত্তেজনার আবহ (CPC delegation)কাটিয়ে ভারত–চিন সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করার মধ্যেই এক উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা দিল নয়াদিল্লি। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথমবার, চিনের শাসক দল কমিউনিস্ট পার্টি অফ চায়না (CPC)-র একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে। মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, দিল্লিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
চিনের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন CPC-র ভাইস মিনিস্টার সান হাইয়ান। সংঘ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বৈঠকে RSS-এর একাধিক শীর্ষ পদাধিকারী উপস্থিত থাকবেন। সংঘের এক প্রবীণ কার্যকর্তা জানিয়েছেন, RSS-এর শতবর্ষ বর্ষে এই বৈঠককে দুই দেশের মধ্যে ‘কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার’ বা আস্থা গঠনের প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
‘পালং শাকের ক্যাশ মেমো!’ ডিজিটাল যোদ্ধাকে কটাক্ষ তরুণ জ্যোতির
যদিও অনেকের কাছেই এই বৈঠক চমকপ্রদ মনে হলেও, সংঘ ও চিনা কমিউনিস্ট নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগ এই প্রথম নয়। ২০০৯ সালে বিজেপি ও RSS-এর একটি প্রতিনিধি দল বেজিং সফরে গিয়েছিল এবং সে সময় CPC-র শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক হয়। আবার ২০১৪ সালে RSS নেতা প্রদীপ যোশী চিনের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস ও নৈতিক শিক্ষার পুনর্লিখন নিয়ে CPC-র অবস্থানকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ চিনের ‘হারানো গৌরব’ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা।
এবারের বৈঠকের তাৎপর্য আরও বেশি, কারণ এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে RSS-এর শতবর্ষ বর্ষে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হল, সংঘের শতবর্ষ উদযাপনের সময় চিনের কোনও প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। নাগপুরে বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে যেমন চিনা দূতদের দেখা যায়নি, তেমনই গত আগস্টে দিল্লিতে RSS প্রধান মোহন ভাগবতের ভাষণসভায়ও চিনের কূটনীতিকদের ডাকা হয়নি। সেই প্রেক্ষাপটে আচমকা এই বৈঠক নতুন করে কূটনৈতিক জল্পনা উসকে দিয়েছে।
এই বৈঠকের আগেই সোমবার, ১২ জানুয়ারি, CPC-র প্রতিনিধি দল বিজেপি সদর দফতরে যায়। সেখানে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিং সহ একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে আলোচনা হয়। বিজেপির বিদেশবিষয়ক দফতরের ইনচার্জ বিজয় চৌথাইওয়ালে সামাজিক মাধ্যমে জানান, এই আলোচনায় বিজেপি ও CPC-র মধ্যে দলগত স্তরে যোগাযোগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সেই বৈঠকে ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত শু ফেইহংও উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, চিনা প্রতিনিধি দল আগামী দিনে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গেও বৈঠক করতে পারে। কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা সলমন খুরশিদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে CPC-র বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ২০২৪ সালে ভারত–চিন সম্পর্কের যে ‘থ’ বা উষ্ণতা ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা এখন আরও দৃশ্যমান রূপ নিচ্ছে। সীমান্ত সমস্যা, কৌশলগত অবিশ্বাস এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও, দুই দেশই এখন রাজনৈতিক ও দলগত স্তরে সংলাপ বাড়াতে চাইছে।
RSS ও CPC-র এই বৈঠককে অনেকেই ‘আন্তর্জাতিক নন্দকুমার মডেল’ বলে কটাক্ষ করলেও, বাস্তবে এটি এশিয়ার দুই প্রাচীন সভ্যতার মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। আগামী দিনে এই বৈঠক ভারত–চিন সম্পর্ককে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।










