
তামিলনাডুর মন্ত্রী কে. এন. নেহরুকে ঘিরে বহুদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ঠিক এই পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁর পুত্র এবং ডিএমকে সাংসদ অরুণ নেহরু সম্প্রতি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের (Nirmala Sitharaman) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ইডি যখন তাঁর বাবার বিরুদ্ধে ১,০২০ কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় এফআইআর দায়েরের সুপারিশ করেছে, তার কয়েক দিনের মধ্যেই এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি করেছে।
ইডির অভিযোগ অনুযায়ী, পৌর প্রশাসন ও জল সরবরাহ দফতরের (MAWS) বিভিন্ন প্রকল্পে টেন্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও ঘুষ নেওয়ার ঘটনায় কয়েকজন আধিকারিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যুক্ত থাকতে পারেন। তদন্তকারী সংস্থা চিঠিতে জানিয়েছে, কাজের মোট টেন্ডার মূল্যের ৭.৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ দলীয় তহবিল হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইডি আরও দাবি করেছে যে এই অভিযোগ “বরফচূড়ার চূড়া মাত্র”—এতে আরও বড় অনিয়ম প্রকাশ পেতে পারে। সংস্থার বক্তব্য, এফআইআর দায়ের না করা হলে তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করার শামিল হবে এবং অভিযুক্তদের রক্ষা করার চেষ্টা বলে মনে হতে পারে।
এই তদন্তের মাঝেই অরুণ নেহরুর নির্মলা সীতারমণের সঙ্গে সাক্ষাৎকে নানান দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। তবে বৈঠকের বিষয়বস্তু ছিল ভিন্ন। অরুণ নেহরু অর্থমন্ত্রীর হাতে একটি স্মারকলিপি জমা দেন, যেখানে তিনি ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিগুলির ওপর কড়া নজরদারি এবং ভোক্তা সুরক্ষা আইনে জরুরি সংশোধনের দাবি জানান। তাঁর বক্তব্য, ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার জন্য আইন আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থায় ক্রেডিট স্কোরের গুরুত্ব বাড়ায় তিনি বিষয়টিতে কেন্দ্রের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, ইডির অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলেছেন মন্ত্রী কে. এন. নেহরু। তিনি সরাসরি অভিযোগ খারিজ করে বলেছেন যে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিশানা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, “আমি আইনের পথে লড়াই করব। ইডি আমাকে অপমান করার চেষ্টা করছে। তারা এমন সব অভিযোগ তুলছে যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” নেহরুর অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে সংস্থাটি এমন সব বিষয় তুলে আনছে যা বাস্তবে নেই এবং এর পিছনে রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত। তিনি আরও বলেন, “বিরোধী দলগুলি ডিএমকে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি সহ্য করতে পারছে না, তাই তদন্ত সংস্থাকে ব্যবহার করে আমাদের লক্ষ্য করা হচ্ছে।”
রাজনৈতিক মহলে এই সব ঘটনাকে ঘিরে তীব্র আলোচনা চলেছে। অরুণ নেহরুর দিল্লি সফর এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ অনেকের কাছে কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে মনে হলেও, ডিএমকে শিবির জানিয়েছে বৈঠকের সঙ্গে তদন্তের কোনও সম্পর্ক নেই। তাদের বক্তব্য, সাংসদের বৈঠক ছিল দেশের ক্রেডিট রেটিং ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে, কোনও ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কারণে নয়।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলি পুরো বিষয়টিকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছে। তাদের মতে, দুর্নীতি মামলার চাপ বাড়তেই কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন ডিএমকে নেতারা। যদিও ডিএমকে নেতৃত্ব দাবি করেছে, “এটি সম্পূর্ণভাবে প্রোপাগান্ডা।” এদিকে ইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সংস্থা জানিয়েছে, একাধিক দফতরের নথি, চুক্তি সংক্রান্ত তথ্য এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি সংস্থা ও ব্যক্তির নাম সামনে আসতে পারে।










