
উত্তরাখন্ড: উত্তরাখণ্ডের রাজনীতিতে নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী (Congress)। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির প্রতীকী মৃতদেহ কাঁধে তুলে মিছিল করল কংগ্রেস কর্মীরা এমনই অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। মিছিল চলাকালীন “ধামি মরে গেছে”, “রাম নাম সত্য”–এর মতো স্লোগান ওঠে বলে দাবি বিজেপি ও শাসক শিবিরের। এই ঘটনার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
বিজেপির তরফে এই কর্মসূচিকে “অরুচিকর, নিন্দনীয় ও গণতান্ত্রিক শালীনতার পরিপন্থী” বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু কোনও নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর ‘প্রতীকী মৃতদেহ’ নিয়ে মিছিল করা শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন নয়, সমাজে হিংসাত্মক মনোভাবও উসকে দিতে পারে।
কলকাতা নয় ভারতেই বিকল্প ভ্যেনুতে খেলবে বাংলাদেশ? সিদ্ধান্ত জানাল BCB
ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি একের পর এক কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের জন্য আলোচনায় রয়েছেন। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, তাঁর নেতৃত্বে রাজ্যে ১০ হাজার একরেরও বেশি দখল করা সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৫০টির বেশি অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি প্রশাসনের। ধামি সরকার প্রকাশ্যে জানিয়েছে, জনসংখ্যাগত ভারসাম্য বদলের যে কোনও চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
এই পদক্ষেপগুলিকেই কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, অবৈধ দখলদারি উচ্ছেদ, বেআইনি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা এবং রাজ্যের জনসংখ্যাগত কাঠামো রক্ষার কথা বলায় মুখ্যমন্ত্রী ধামিকে নিশানা করা হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, “যাঁরা ধর্মান্তর, মিশনারি কার্যকলাপ কিংবা কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, তাঁরা কি সবসময়ই কংগ্রেসের আক্রমণের লক্ষ্য হন?”
বিজেপি নেতারা এই প্রসঙ্গে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উদাহরণও টানছেন। তাঁদের দাবি, হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও যখন অবৈধ অনুপ্রবেশ, বেআইনি মাদ্রাসা ও ধর্মান্তর নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করেছিলেন, তখন তাকেও একইভাবে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করা হয়েছিল। এখন সেই একই প্যাটার্ন উত্তরাখণ্ডে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে কংগ্রেসের তরফে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচি প্রতীকী প্রতিবাদ, কোনও ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়। কংগ্রেস নেতাদের দাবি, ধামি সরকারের নীতির ফলে রাজ্যে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক মানুষ আতঙ্কিত, সেই প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি। তবে ‘মৃতদেহ মিছিল’ সংক্রান্ত স্লোগান নিয়ে তারা সরাসরি দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আসলে বৃহত্তর জাতীয় রাজনীতির প্রতিফলন। একদিকে বিজেপি ‘হিন্দু পরিচয়’ ও কড়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে, অন্যদিকে কংগ্রেস সেই নীতির বিরোধিতাকে হাতিয়ার করে মাঠে নামছে। ফলত রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমেই ব্যক্তিগত ও প্রতীকী স্তরে নেমে আসছে।
সব মিলিয়ে, উত্তরাখণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতীকী মৃতদেহ নিয়ে মিছিল শুধু একটি রাজ্য-স্তরের ঘটনা নয়। এটি দেশের রাজনীতিতে প্রতিবাদের ভাষা, শালীনতা এবং আদর্শগত সংঘাত কোন দিকে যাচ্ছে সেই প্রশ্নই তুলে দিল। আগামী দিনে এই বিতর্ক আরও কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।










