বিধানসভা নির্বাচনের আগেই ফাটল কংগ্রেসে! থাকছে দল বদলের সম্ভাবনা

নয়াদিল্লি: কেরল বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কংগ্রেসের (Congress)একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আজ দুপুর ২.৩০টায় হতে চলেছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে এবং রাহুল গান্ধীসহ সিনিয়র লিডাররা উপস্থিত…

congress-rift-kerala-assembly-elections-tharoor

নয়াদিল্লি: কেরল বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কংগ্রেসের (Congress)একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আজ দুপুর ২.৩০টায় হতে চলেছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে এবং রাহুল গান্ধীসহ সিনিয়র লিডাররা উপস্থিত থাকবেন এই আলোচনায়। কিন্তু এই মিটিংয়ে অনুপস্থিত থাকবেন কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা এবং থিরুভানন্তপুরমের এমপি শশী থারুর।

Advertisements

সূত্রের খবর, রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক কোচি সফরে ‘যথাযথ সম্মান’ না পাওয়ায় থারুর অসন্তুষ্ট। এই ঘটনা কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে আরও উস্কে দিয়েছে, বিশেষ করে যখন থারুর সাম্প্রতিককালে মোদী সরকারের কিছু নীতিকে সমর্থন করে বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছেন। তবে কি নির্বাচনের আগেই বড় ঝটকা খাবে কংগ্রেস। থারুর কি বদলে ফেলবেন তার নির্বাচনী জার্সি।

   

রাফাল ও আধুনিক রাডারে জোর: সেনার আধুনিকীকরণে ২ লক্ষ কোটির ‘বিগ পুশ’ কেন্দ্রের

থারুরের অনুপস্থিতির পিছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে কোচির ‘মহাপঞ্চায়ত’ অনুষ্ঠান। সেখানে রাহুল গান্ধী উপস্থিত ছিলেন এবং অন্যান্য নেতাদের নাম উল্লেখ করে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন, কিন্তু থারুরের নাম নেননি।

এটা থারুরের কাছে ‘অপমান’ বলে মনে হয়েছে। থারুরের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, এই ঘটনা অপ্রয়োজনীয় ছিল, কারণ থারুর আগেই লিডারশিপকে জানিয়েছিলেন যে তিনি মিটিংয়ে যেতে পারবেন না। পরিবর্তে, তিনি কেরালায় একটা লিটারেচার ফেস্টিভ্যালে অংশ নেবেন।

এই সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের কেরল ইউনিটের সঙ্গে থারুরের সম্পর্কে আরও ফাটল ধরিয়েছে।কেরালা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর মে মাসে হওয়ার কথা। ২০২১-এর নির্বাচনে কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ পরাজিত হয়েছে এলডিএফের কাছে। এবার পার্টি চাইছে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন।

মিটিংয়ে আলোচনা হবে পোল স্ট্র্যাটেজি, ইউডিএফের সম্ভাবনা এবং প্রচারণা পরিকল্পনা নিয়ে। রাহুল গান্ধী এবং খড়গের উপস্থিতি এই মিটিংকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। কিন্তু থারুরের অনুপস্থিতি পার্টির ঐক্যের উপর প্রশ্নচিহ্ন তুলছে।

থারুরের সাম্প্রতিক অবস্থানও আলোচনার বিষয়। তিনি মোদী সরকারের কিছু নীতিকে সমর্থন করেছেন, যেমন বিদেশনীতি বা অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে। এটা কংগ্রেসের অভ্যন্তরে অস্বস্তি তৈরি করেছে। বিজেপি এই ফাঁকে কংগ্রেসকে খোঁচা দিয়েছে, বলেছে পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভেদ স্পষ্ট।

থারুরের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, এই ঘটনা কেরল কংগ্রেসের স্টেট লিডারশিপের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের অসন্তোষের প্রতিফলন। গত মাসে ওয়ায়ানাদে একটা লিডারশিপ ক্যাম্পে থারুর অংশ নিয়েছিলেন, যা সম্পর্ক মেরামতের লক্ষণ ছিল। কিন্তু এখন আবার টেনশন।

রাহুল গান্ধীর প্রতিক্রিয়া নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে সূত্র বলছে, রাহুল এই বিষয়ে সচেতন এবং পার্টির ঐক্য রক্ষায় চেষ্টা করবেন। কংগ্রেসের একটা অংশ মনে করে, থারুরের মতো সিনিয়র নেতাকে অবহেলা করা ঠিক হয়নি। অন্যদিকে, কেরল ইউনিটের কিছু লিডার বলছেন, থারুরের অবস্থান পার্টির লাইনের সঙ্গে মেলে না। এই ঘটনা পার্টির জন্য একটা ধাক্কা, কারণ নির্বাচনের আগে অভ্যন্তরীণ ঝামেলা দুর্বলতা দেখায়।

Advertisements