কংগ্রেস (Congress) নেতা বি কে হরিপ্রসাদ সম্প্রতি কর্ণাটকে চলা উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে প্রকাশ্য মক্তব্য করেছেন। তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট, সরকারের এই পদক্ষেপগুলো শুধুই প্রশাসনিক নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবন ও দেশীয় আদর্শের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। তিনি উচ্ছেদ অভিযান ও এমজিএনরেগাকে কেন্দ্র করে যে দুইটি বিষয় তুলে ধরেছেন, তা সমাজ ও রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
করুণাময়ী মন্তব্যে হরিপ্রসাদ জানান, বেঙ্গালুরু উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, যা বর্তমানে গ্রেটার বেঙ্গালুরু অথরিটি নামে পরিচিত, কিছু এলাকায় অনিয়মিত দখল নিয়েছে। তবে এই বিষয়টি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। হরিপ্রসাদের কথায়, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন নির্দেশ দিয়েছেন যে, মন্ত্রী জামীর আহমেদ খান বিষয়টি দ্রুত সমাধান করবেন। তিনি আশ্বাস দেন, উচ্ছেদ অভিযান আপাতত বন্ধ রয়েছে এবং এটি শীঘ্রই সমাধান হয়ে যাবে। এই মন্তব্যে দেখা যায়, কংগ্রেস সরকারকে চাপ দেওয়ার পাশাপাশি সমস্যার দ্রুত সমাধানের প্রয়াস করছে।
উচ্ছেদ অভিযান শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়, এটি সাধারণ মানুষের জীবনেও প্রভাব ফেলছে। বহু পরিবারের ঘরবাড়ি, ব্যবসা ও আয় সহায়তার জন্য এই এলাকায় নির্ভরশীল। হঠাৎ উচ্ছেদ বা দখল তাদের জীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। হরিপ্রসাদ এই পরিস্থিতিকে সমাজের সাধারণ মানুষের উপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, সরকারকে অবশ্যই ন্যায় এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সমস্যা সমাধান করতে হবে।
এছাড়াও হরিপ্রসাদ এমজিএনরেগা নিয়ে কঠোর বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেন, “এই মানুষরা মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করেছে, এবং এখন তারা মহাত্মা গান্ধীর গ্রাম স্বরাজ এবং ‘অন্ত্যোদয়া’ আদর্শ ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। এটি গরিবদের ওপর আক্রমণের বিরুদ্ধে একটি লড়াই।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, এমজিএনরেগা কেবল একটি কর্মসংস্থান প্রকল্প নয়, এটি গ্রামীণ ভারতের জন্য জীবনরেখার মতো। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষরা খাদ্য, আয় এবং সামাজিক নিরাপত্তা পায়।
হরিপ্রসাদ আরও বলেন, যারা এমজিএনরেগাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, তারা শুধুমাত্র কর্মসংস্থানের সুযোগ কমাচ্ছে না, বরং দেশের আদর্শমূলক চিন্তাভাবনাকেও আঘাত করছে। গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রা, তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদা—সবকিছু এই প্রকল্পের উপর নির্ভরশীল। এমজিএনরেগার বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপকে তিনি ‘গরিবদের প্রতি আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
