
মহারাষ্ট্র: ভারতীয় সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণের গতি আরেক ধাপ (COAS General Upendra Dwivedi)এগিয়ে গেল দেবলালিতে অনুষ্ঠিত আর্টিলারি রেজিমেন্টের দ্বিবার্ষিক কনফারেন্সে। সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় দেশের আগ্নেয়াস্ত্র শাখার ভবিষ্যৎ কৌশল, প্রযুক্তি সংযোজন এবং যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবর্তিত
বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাহিনীর পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। স্কুল অফ আর্টিলারির শান্ত পরিবেশে সেনার শীর্ষ নেতৃত্ব, ডিরেক্টর জেনারেল (আর্টিলারি), কর্নেল কমান্ডেন্টস, বিভিন্ন ফর্মেশন কমান্ডার ও কমান্ডিং অফিসাররা এক ছাদের নিচে সমবেত হয়ে বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন এবং আগামীর লক্ষ্য নির্ধারণ করেন।
কনফারেন্সের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল—আগামী দশকের যুদ্ধক্ষেত্র কেমন হতে চলেছে এবং সেই লড়াইয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী কীভাবে আরও শক্তিশালী, আরও চটপটে এবং প্রযুক্তি-নির্ভর হবে। জেনারেল দ্বিবেদী আলোচনার প্রতিটি অংশ মন দিয়ে শোনেন এবং বিভিন্ন আধুনিকায়ন পদক্ষেপে তাঁর মতামত তুলে ধরেন। বিশেষ করে সেনাবাহিনীতে আর্টিলারি ব্রিগেডের কাঠামোগত পরিবর্তন, স্মার্ট গোলাবারুদ, স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্যভেদ ব্যবস্থা এবং রিয়েল-টাইম ব্যাটল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মতো আধুনিক উপাদানের সংযোজন এই বৈঠকের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল।
কনফারেন্সের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষে সেনাপ্রধান যান স্কুল অফ আর্টিলারিতে স্থাপিত ড্রোন এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার-এ। সেখানে তিনি অত্যাধুনিক ড্রোন ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হন, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের লড়াইয়ে আর্টিলারি ইউনিটগুলি আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে।
তাঁকে দেখানো হয় অত্যাধুনিক সিমুলেটর ল্যাব, যেখানে অফিসার ও জওয়ানরা বাস্তবসম্মত ডিজিটাল যুদ্ধক্ষেত্রে অনুশীলন করেন। ইনকিউবেশন সেন্টারে সেনাবাহিনীর তরুণ উদ্ভাবকরা কীভাবে নতুন প্রযুক্তি তৈরি করছেন এবং ড্রোন ও অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমের ব্যবহার আরও দক্ষ করে তুলছেন, তাও তুলে ধরা হয়।
ড্রোন ম্যানুভার এরেনা পরিদর্শনের সময় জেনারেল দ্বিবেদী নিজে দেখেন কীভাবে প্রশিক্ষণার্থীরা লক্ষ্য চিহ্নিতকরণ, নজরদারি, উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ মিশন প্ল্যানিং এবং নির্ভুল টার্গেটিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা গড়ে তুলছেন। আকাশপথে চালিত যুদ্ধের যুগে এমন প্রশিক্ষণের গুরুত্ব কতটা, তা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
এরপর স্টেশন অফিসারদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, “ভারতীয় সেনাবাহিনী আজ বিশ্বের দ্রুততম আধুনিকায়নশীল বাহিনীগুলির একটি। আর্টিলারি রেজিমেন্ট সেই পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। আপনারা যেভাবে আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি শিখছেন, তা আমাদের সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।” তিনি অফিসারদের নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম এবং নতুন প্রযুক্তির প্রতি তাদের আগ্রহকে প্রশংসা করেন এবং জানান যে ভারতীয় সেনা আগামী দিনে প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছবে।
জেনারেল দ্বিবেদী আরও বলেন, “নতুন প্রজন্মের যুদ্ধ কোনোভাবেই শুধুমাত্র শারীরিক শক্তির ওপর নির্ভর করবে না। প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, নির্ভুল পরিকল্পনা এবং তথ্য-ভিত্তিক সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতের লড়াইয়ের মূল অস্ত্র। তাই প্রতিটি অফিসারকে শুধু আজকের জন্য নয়, আগামী দশকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী প্রশিক্ষণ নিতে হবে।”
দেবলালির আর্টিলারি কনফারেন্স বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এবারের বৈঠক বিশেষ নজর কেড়েছে ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি-নির্ভর ভবিষ্যৎ যুদ্ধপদ্ধতির ওপর জোর দেওয়ার কারণে। সেনাপ্রধানের সরাসরি পরিদর্শন ও প্রশংসা আর্টিলারি ইউনিটের মনোবল আরও বাড়িয়ে তুলেছে। দেশের প্রতিরক্ষা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে যে পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন দরকার, তার দিকনির্দেশ এই কনফারেন্সে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।










