ভারতে সিগারেটের দাম (Cigarette price hike) চতুর্গুণ বেড়ে যেতে পারে। এই সম্ভাবনা তৈরি হলো কেন্দ্রীয় সংসদে Central Excise (Amendment) Bill, 2025 পাশ হওয়ার পর। নতুন এই আইন প্রণীত হয়েছে মন্ত্রী অব স্টেট ফর ফাইন্যান্স পঙ্কজ চৌধুরী কর্তৃক। এই বিলের মাধ্যমে ধূমপানজাত পণ্যের উপর একেবারেই নতুন এবং বড় ধরনের শুল্ক ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
বর্তমানে সিগারেটের দাম যদি ১৮ টাকা হয়, তবে সরকার অনুমান করছে, নতুন শুল্ক অনুযায়ী তা দ্রুত ৭২ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এই আইন শুধুমাত্র সিগারেটকেই লক্ষ্য করে তৈরি হয়নি। ধূমপানজাত পণ্য যেমন: সিগারেট, সিগার, হুক্কা তামাক, চুইং তামাক, জর্দা এবং সুগন্ধযুক্ত তামাক—সবকিছুতেই নতুন শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
বর্তমান Central Excise Act, 1944 অনুযায়ী, সিগারেট প্রতি ১,০০০ স্টিকের জন্য ২০০ থেকে ৭৩৫টাকা পর্যন্ত শুল্ক থাকে। নতুন আইন অনুযায়ী, এটি বৃদ্ধি পাবে ২৭০০ থেকে ১১০০০ টাকা পর্যন্ত। এই পরিবর্তন সরাসরি খুচরা দামে প্রতিফলিত হবে।
চুইং তামাকের শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে চার গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১০০ শতাংশ হবে। হুক্কা তামাকের শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এছাড়াও পাইপ ও সিগারেটের জন্য ব্যবহৃত স্মোকিং মিশ্রণের শুল্ক ৬০ শতাংশ থেকে ৩২৫ শতাংশে বৃদ্ধি পাবে।
সরকারি অনুমান অনুযায়ী, এই পরিবর্তন বাজারে ধূমপানজাত পণ্যের দামকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে। বর্তমানে ১৮ টাতা দামের একটি সাধারণ সিগারেট ভবিষ্যতে ৭২টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে। প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের সিগারেটের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
নতুন এই শুল্ক প্রবর্তনের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কৌতুকের মাধ্যমে, কেউ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে মন্তব্য করেছেন। একজন লিখেছেন, তিনি নিজে ধূমপায়ী হলেও এই সিদ্ধান্ত পছন্দ করেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, দাম বৃদ্ধি শিক্ষার্থী এবং যুবকদের ধূমপান থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করবে। অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন দাম বৃদ্ধির ফলে ধূমপায়ীরা ধীরে ধীরে সিগারেট ছাড়ার দিকে এগোতে পারে।
পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে কেন্দ্র করে এই আইনকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ শুল্ক ও দাম বৃদ্ধির ফলে ধূমপায়ীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। সরকারের লক্ষ্য, নতুন প্রজন্মকে ধূমপান থেকে দূরে রাখা এবং জনস্বাস্থ্যের রক্ষা নিশ্চিত করা।
সিগারেট এবং অন্যান্য ধূমপানজাত পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু বাজারে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং জনস্বাস্থ্যের উপরও তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকারের এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে।
