
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ধূমপায়ীদের (cigarette price)পকেটে বড়সড় টান পড়তে চলেছে। সিগারেটের দামে আসছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন, যা কার্যত ধূমপানের খরচ আগের তুলনায় অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে। কেন্দ্রীয় সরকার তামাকজাত দ্রব্য, বিশেষ করে সিগারেটের কর কাঠামোয় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। এই নতুন ব্যবস্থায় আর সিগারেটের ব্র্যান্ড বা প্যাকেটের নাম নয়, সিগারেটের দৈর্ঘ্যই নির্ধারণ করবে আপনি দোকানদারকে কত টাকা দেবেন।
এতদিন পর্যন্ত জিএসটির আওতায় সিগারেটের দাম নির্ধারিত হলেও এবার তার পাশাপাশি ফের চালু করা হচ্ছে ‘নির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক’। এই আবগারি শুল্ক সিগারেটের দৈর্ঘ্য ও ফিল্টার আছে কি না এই দুইয়ের উপর ভিত্তি করে হিসাব করা হবে। অর্থাৎ, সিগারেট যত লম্বা, কর তত বেশি।
ইন্দোরের পর মোদী রাজ্যেও বিষাক্ত জলে বাড়ছে টাইফয়েড
নতুন কর কাঠামো অনুযায়ী, প্রতি ১ হাজারটি সিগারেটের উপর ২,০৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৮,৫০০ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে প্রতি কাঠি সিগারেটের দামে। ফলে ধূমপায়ীদের প্রতিটি সিগারেট ধরানোর আগে দু’বার ভাবতে হতে পারে। সরকারি নথি অনুযায়ী, যদি কেউ ফিল্টার ছাড়া ৬৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট সিগারেট খান, তাহলে প্রতি কাঠিতে আবগারি শুল্ক দিতে হবে ২.০৫ টাকা। একই দৈর্ঘ্যের সিগারেট যদি ফিল্টারযুক্ত হয়, সেক্ষেত্রে কর বেড়ে প্রতি সিগারেটে দাঁড়াবে ২.১০ টাকা।
মিড-রেঞ্জ বা মাঝারি দৈর্ঘ্যের ফিল্টার সিগারেট, অর্থাৎ ৬৫ থেকে ৭০ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের সিগারেটের ক্ষেত্রে প্রতি কাঠিতে আবগারি শুল্ক পড়বে আনুমানিক ৩.৬০ টাকা থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত। যারা ৭০ থেকে ৭৫ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের সিগারেট ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। এই ধরনের সিগারেটের উপর প্রতি স্টিকে ৫.৪০ টাকা আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন প্রিমিয়াম ও লম্বা সিগারেটের ধূমপায়ীরা। ৭৫ মিলিমিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের সিগারেটের ক্ষেত্রে প্রতি কাঠিতে আবগারি শুল্ক ৮.৫০ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। ফলে প্রিমিয়াম সিগারেটের এক প্যাকেট কিনতে আগের তুলনায় অনেক বেশি টাকা গুনতে হবে।
এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে জিএসটি কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কেন্দ্র ও রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে তামাকজাত দ্রব্য এবং পান মশলার উপর ৪০ শতাংশ জিএসটি আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক ও সেস।
গুটকার উপর মোট করের হার কার্যত ৯১ শতাংশে পৌঁছেছে। চিউয়িং টোবাকো এবং জর্দার মতো গন্ধযুক্ত তামাকজাত দ্রব্যের উপর প্রায় ৮২ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক চাপানো হয়েছে। সরকার মনে করছে, এই কঠোর কর নীতির ফলে তামাক সেবন নিরুৎসাহিত হবে এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৭ সালে জিএসটি চালুর পর এই প্রথম সিগারেটের কর কাঠামোয় এত বড় পরিবর্তন আনা হল। তখন আবগারি শুল্ক কিছুটা কমানো হলেও এবার ফের জিএসটির উপর নতুন আবগারি শুল্ক যুক্ত করা হচ্ছে। যদিও জিএসটি ক্ষতিপূরণ সেস বাতিল করা হয়েছে, তবুও নতুন কর ব্যবস্থায় তামাকজাত পণ্যের উপর মোট করের বোঝা পণ্যের মূল্যের প্রায় ৫৩ শতাংশে পৌঁছতে পারে। সব মিলিয়ে, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ধূমপান শুধু স্বাস্থ্যের জন্য নয়, পকেটের জন্যও আরও বেশি ক্ষতিকর হয়ে উঠতে চলেছে।







