
পূর্ব লাদাখের বিতর্কিত প্যাংগং সো অঞ্চলে স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি আরও সুসংহত করছে চিন। উচ্চ রেজোলিউশনের সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবিতে স্পষ্ট ধরা পড়েছে, হ্রদের একেবারে সন্নিকটে নতুন করে একাধিক পাকা সামরিক কাঠামো নির্মাণ করছে চিনা সেনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)। সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা এই চিত্রগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ২০২০ সালের সংঘর্ষ-পরবর্তী ‘ডিসএনগেজমেন্ট’-এর পরও সীমান্ত এলাকায় চিনের কৌশলগত অবস্থান ধীরে ধীরে আরও দৃঢ় হচ্ছে।
নতুন সামরিক কমপ্লেক্স
স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সিরিজাপ পোস্ট সংলগ্ন এলাকায়, যা ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর থেকে চিনের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভারত নিজের ভূখণ্ড হিসেবেই দাবি করে, একটি নতুন সামরিক কমপ্লেক্স গড়ে উঠছে। হ্রদের জলরেখা থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে এই স্থায়ী নির্মাণ PLA-কে বাফার জোনের কাছাকাছি আরও বেশি সেনা, রসদ ও সরঞ্জাম মোতায়েনের সুযোগ করে দেবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।
২০২০ সালের উত্তেজনার পর দীর্ঘদিন ওই এলাকায় মূলত অস্থায়ী শিবির, নৌকা ও একটি পিয়ার ব্যবহার করে সেনা মোতায়েন বজায় রেখেছিল চিন। স্পেস ইন্টেলিজেন্স সংস্থা ভ্যান্টরের ২৮ ডিসেম্বরের স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সেই অস্থায়ী কাঠামোর পাশেই দ্রুতগতিতে উঠছে নতুন পাকা ভবন। গত বছরের জুনে যেখানে প্যাংগং সো-র জলে নৌকা ভাসতে দেখা গিয়েছিল, শীতকালে হ্রদ জমে যাওয়ার সম্ভাবনায় সেগুলি এখন ঢেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
নির্মাণকাজের গতি চোখে পড়ার মতো Chinese structures near Pangong Lake
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে এই নির্মাণকাজের গতি চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। ডিসেম্বরের ছবিতে ইতিমধ্যেই একাধিক স্থায়ী ভবনের অবয়ব স্পষ্ট।
এই সামরিক তৎপরতা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন কূটনৈতিক স্তরে ভারত-চিন সম্পর্কে কিছুটা উষ্ণতার ইঙ্গিত মিলেছে। সাত বছর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চিন সফর, সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়া সেই বার্তাই দেয়। পূর্ব লাদাখের সব সংঘর্ষবিন্দু থেকে ‘ডিসএনগেজমেন্ট’-এর দাবি করা হলেও, চিনের এই স্থায়ী নির্মাণ তাদের দীর্ঘমেয়াদি সীমান্ত কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
এয়ার ডিফেন্স সাইট
দ্য ইন্টেল ল্যাবের ভূস্থানিক গবেষক ডেমিয়েন সাইমন মন্তব্য করেছেন, “প্যাংগং হ্রদের কাছে চিনের এই নির্মাণ তাদের পুরনো কৌশলেরই ধারাবাহিকতা, অস্থায়ী উপস্থিতিকে স্থায়ী নিয়ন্ত্রণে পরিণত করা। প্রকল্পটি ২০২০ সালের ডিসএনগেজমেন্ট এলাকার ঠিক বাইরে অবস্থিত এবং প্রতিকূল আবহাওয়াতেও বছরভর সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষমতা বাড়াবে।”
এর আগেও স্যাটেলাইট ছবিতে ওই অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ট্রান্সপোর্টার ইরেক্টর লঞ্চার (TEL) রাখার উপযোগী আচ্ছাদিত এয়ার ডিফেন্স সাইট তৈরির প্রমাণ মিলেছে। পাশাপাশি বিতর্কিত এলাকার বাইরে চিন যে বৃহৎ বসতি গড়ে তুলছে, তা সামরিক ও অসামরিক, দু’ক্ষেত্রেই ব্যবহারযোগ্য হতে পারে বলে ধারণা।
কমান্ডার স্তরের বৈঠক
বিদেশমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC) সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন (WMCC) এবং শীর্ষ সামরিক কমান্ডার স্তরের বৈঠক হয়েছে। ডিসএনগেজমেন্টের পর সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা, বিমান যোগাযোগ, সীমান্ত নদী এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি সংক্রান্ত আলোচনা চলেছে।
তবু বাস্তবতা একটাই, প্যাংগং সো-র তীরে চিনের এই স্থায়ী সামরিক নির্মাণ দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে উদ্বেগ ও সতর্কতার বার্তা দিচ্ছে।
Bharat: High-resolution satellite imagery from January 2026 reveals China’s new permanent military structures near Pangong Tso. Despite disengagement talks, the PLA is fortifying Sirijap Post with air defense sites and barracks. Get the latest LAC updates.










